গলা ব্যথা হলে করণীয় কি? হঠাৎ গলার অস্বস্তি বা ঢোক গিলতে ব্যথায় ভুগছেন? এই সাধারণ সমস্যার অসাধারণ সব ঘরোয়া সমাধান রয়েছে আপনার হাতের কাছেই। আমাদের এই পোস্টে বিস্তারিত জানুন গলা ব্যথা হলে কি করা উচিত এবং কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
এই আর্টিকেলে রয়েছে ঘরোয়া চিকিৎসা, সঠিক খাবার নির্বাচন এবং ঔষধ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন এবং ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকরী উপায়গুলো জানতে পড়ুন আমাদের এই পোস্ট, যা আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।
গলা ব্যথা হলে করণীয় কি?
গলা ব্যথা হলে করণীয় কি? সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। প্রথম কাজ—গলাকে বিশ্রাম দিন, কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গারগল করুন, আর ঠান্ডা খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলুন। গলা ব্যথা আমাদের অনেকেরই হয়—বিশেষ করে আবহাওয়ার পরিবর্তনে।
এতে ঢোক গিলতে, কথা বলতে বা খেতে কষ্ট হয়। বেশিরভাগ গলা ব্যথা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ঠান্ডা, ধুলাবালি, বা অ্যালার্জির কারণে হয়। কিছু সহজ যত্ন নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। গলা ব্যথা হলে করণীয় কি বিস্তারিত এক নজরে দেখে নিন।
গলা ব্যথা হলে যা করবেন
- কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে কয়েকবার গারগল করুন
- গলাকে বিশ্রাম দিন, কম কথা বলুন
- ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংক এড়িয়ে চলুন
- গরম চা, আদা-লেবু-মধু মিশিয়ে পান করুন
- প্রচুর পানি ও তরল খাবার খান
- ঘর গরম ও আর্দ্র রাখুন, ধুলাবালি এড়ান
- ধূমপান ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন
- গরম পানির ভাপ নিন
- বিশ্রাম নিন, শরীরকে আরাম দিন
গলা ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি থাকলে, ঢোক গিলতে বেশি কষ্ট হলে বা জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
গলা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া চিকিৎসা

গলা ব্যথা হলে ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই আরাম পাওয়া যায়। গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করা, আদা চা ও হলুদ দুধ পান করা খুবই কার্যকর। এগুলো গলার ব্যথা কমাতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
গলা ব্যথা অনেক সময় ঠাণ্ডা, ভাইরাস বা অ্যালার্জির কারণে হয়। ওষুধ ছাড়াই ঘরোয়া কিছু উপায় মেনে চললে ব্যথা দ্রুত কমে যায় এবং গলা আরাম পায়। আমাদের উচিত গলাকে বিশ্রাম দেওয়া, গরম-ঠান্ডা খাবার এড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।
গলা ব্যথা হলে ঘরোয়া চিকিৎসা যা করবেন
- আধা চামচ লবণ গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে কয়েকবার গারগোল করুন
- হলুদ দুধ (গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে) পান করুন
- আদা চা বানিয়ে গরম গরম খান
- পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খান
- গলা বিশ্রাম দিন, কম কথা বলুন
- গরম ভাঁপ নিন (স্টিম)
- মধু ও লেবুর মিশ্রণ পান করুন
- তুলসির রস বা পাতা ফুটিয়ে গরম পান করুন
- ধূমপান ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন
- ঘর আর্দ্র রাখুন, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন
তথ্যসূত্র:
ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়
ঢোক গিলতে গলা ব্যথা সাধারণত গলার প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে হয়, যা গিলতে অসুবিধা এবং ব্যথার সৃষ্টি করে। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, অ্যালার্জি কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ফল হতে পারে। গলা ব্যথা হলে ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
গলার টিস্যু ফুলে গেলে বা সংক্রমিত হলে গিলতে ব্যথা হয়। অনেক সময় গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD) বা পেটের অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসার কারণে গলায় জ্বালা হয়। এছাড়া শারীরিক আঘাত, অ্যালার্জি, ছত্রাক সংক্রমণ, এমনকি গলার টিউমারও এই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার কারণ সমূহ
- ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গলার সংক্রমণ (ফ্যারিঞ্জাইটিস, টনসিলাইটিস)
- গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)
- গলা বা খাদ্যনালীর আঘাত বা জ্বালা
- অ্যালার্জির কারণে গলার ফোলা ও জ্বালা
- ছত্রাক সংক্রমণ (ওরাল থ্রাশ)
- গলার টিউমার বা সৌম্য বৃদ্ধি
- স্নায়বিক সমস্যা যেমন পার্কিনসন রোগ
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- শুষ্ক বা দূষিত বাতাসে গলার জ্বালা
- ধূমপান ও ধোঁয়ার প্রভাব
গলা ব্যথা হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত
গলা ব্যথা হলে সাধারণত ব্যথা উপশমকারী ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া উচিত। যদি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকে, তখন ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হবে। অতিরিক্ত প্রদাহ বা ফোলাভাব কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েডও ব্যবহার করা হতে পারে।
গলা ব্যথা অনেক সময় ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয়। তাই সঠিক ওষুধ নির্বাচন জরুরি। ব্যথানাশক ওষুধ গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, আর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনো খাওয়া উচিত নয়।
গলা ব্যথা হলে যে ধরনের ওষুধ আপনার খাওয়া উচিত
- প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) ব্যথা কমাতে
- আইবুপ্রোফেন প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে
- গলা লজেঞ্জ সাময়িক আরাম দেয়
- ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে পেনিসিলিন বা অ্যামোক্সিসিলিন
- পেনিসিলিন অ্যালার্জি হলে সেফালেক্সিন
- গুরুতর প্রদাহে কর্টিকোস্টেরয়েড (প্রেডনিসোন, ডেক্সামেথাসোন)
- প্রচুর গরম তরল পান করা
- গরম লবণ পানি দিয়ে গারগল করা
- ধূমপান ও ধোঁয়া এড়ানো
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা
তথ্যসূত্র:
গলা ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত

গলা ব্যথা হলে নরম, স্যাঁতসেঁতে ও গরম বা ঠান্ডা খাবার খাওয়া উচিত যা গলার জ্বালা কমায় এবং গিলতে সহজ হয়। এ সময় তীব্র, ঝাল, বা অম্লীয় খাবার এড়ানো ভালো। গলা ব্যথা আমাদের গিলতে কষ্ট দেয়, তাই খাবার নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাবার গলার আরাম দেয়, শরীরকে শক্তি জোগায় এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
গলা ব্যথা হলে যা আপনার খাওয়া উচিত
- গরম স্যুপ ও ব্রথ (মুরগির স্যুপ খুবই উপকারী)
- ওটমিল, মসৃণ পেস্ট্রি বা ম্যাশড আলু
- দই ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার
- নরম ও সিদ্ধ সবজি
- পাকা কলা, আপেল সস, মেলন, পিচের মতো নরম ফল
- আদা চা বা আদা মিশ্রিত গরম পানীয়
- মধু মিশ্রিত লেবুর পানি
- ঠান্ডা আইসক্রিম বা পপসিকল (গলার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে)
- সেদ্ধ বা স্ক্র্যাম্বলড ডিম
- প্রচুর পানি ও হাইড্রেশন বজায় রাখা
বর্জনীয়: ঝাল, তিতা, অম্লীয়, খাস্তা ও কঠিন খাবার, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন।
তথ্যসূত্র:
গলা ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত না

গলা ব্যথা হলে এমন খাবার খাওয়া উচিত নয় যা গলার জ্বালা বা প্রদাহ বাড়ায়। ঝাল, টক, শক্ত ও শুকনো খাবার গলার ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এগুলো থেকে দূরে থাকা জরুরি। গলা ব্যথা আমাদের গিলতে কষ্ট দেয়, তাই খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। ভুল খাবার গলার টিস্যুকে আরও আঘাত করতে পারে, ব্যথা বাড়ায় এবং আরাম পাওয়া দেরি করে।
গলা ব্যথা হলে যেসব আপনাকে বর্জন করতে হবে
- মশলাদার ও ঝাল খাবার
- টক বা অ্যাসিডিক খাবার যেমন লেবু, টমেটো, সিট্রাস ফল
- শক্ত, খাস্তা বা শুকনো খাবার যেমন বাদাম, চিপস, বিস্কুট
- খুব গরম বা খুব ঠান্ডা খাবার ও পানীয়
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহল
- অতিরিক্ত চিনি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার
- ধূমপান ও ধোঁয়া
- ফাস্ট ফুড ও তেলযুক্ত খাবার
- অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
- গ্যাসযুক্ত বা সোডা পানীয়
কি করলে গলা ব্যথা কমবে?
গলা ব্যথা কমাতে গলা ভালোভাবে বিশ্রাম দেওয়া, গরম লবণজল দিয়ে গারগল করা, এবং প্রচুর গরম তরল পান করা খুবই কার্যকর। এছাড়া ধোঁয়া-ধূমপান এড়ানো ও গলা শুষ্ক না রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করাও সাহায্য করে। গলা ব্যথা সাধারণত সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে হয়। তাই গলাকে আরাম দেওয়া এবং প্রদাহ কমানোই সবচেয়ে জরুরি। সঠিক যত্ন নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গলা ব্যথা দ্রুত কমে যায়।
গলা ব্যথা কমাতে আপনি যা করবেন
- গরম লবণজল দিয়ে দিনে কয়েকবার গারগল করুন
- প্রচুর গরম পানি, চা, স্যুপ পান করুন
- গলাকে বিশ্রাম দিন, কম কথা বলুন
- ধোঁয়া, ধূমপান ও দূষিত বাতাস থেকে দূরে থাকুন
- গলা শুষ্ক না রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন
- মধু ও আদা মিশ্রিত গরম পানীয় খান
- ঠান্ডা বা বরফ খাওয়া এড়িয়ে চলুন
- গলা লজেন্স ব্যবহার করতে পারেন
- ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন প্যারাসিটামল) ডাক্তারের পরামর্শে নিন
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
গলা ব্যথা সাধারণত কতদিন স্থায়ী হয়?
গলা ব্যথা সাধারণত ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হতে পারে, যা সঠিকভাবে সেবন করলে ব্যথা দ্রুত কমে।
গলা ব্যথার স্থায়িত্ব অনেকটাই নির্ভর করে কারণ ও চিকিৎসার ওপর। ভাইরাসজনিত গলা ব্যথা সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়, কিন্তু যদি ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি থাকে বা জ্বর, গিলতে সমস্যা হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি। গলা ব্যথা কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, গরম লবণজল দিয়ে গারগল, এবং প্রচুর তরল পান করা উচিত।
গলা ব্যথার স্থায়িত্বকাল
- ভাইরাসজনিত গলা ব্যথা ৭-১০ দিনের মধ্যে কমে যায়
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়
- যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, ডাক্তারের পরামর্শ নিন
- জ্বর, গিলতে অসুবিধা বা টনসিল ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল পান করা জরুরি
- গরম লবণজল দিয়ে গারগল করলে আরাম মেলে
- ধূমপান ও ধোঁয়া এড়ানো উচিত
- গলা শুষ্ক না রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন
- অ্যালার্জি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে আলাদা চিকিৎসা দরকার
- গলা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
গলা ব্যথার কোন পর্যায়ে ডক্টরের কাছে যেতে হবে

গলা ব্যথার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসায় আরাম পাওয়া যায়, তবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি ব্যথা তীব্র হয়, গিলতে সমস্যা হয় বা জ্বর থাকে, তখন দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
গলা ব্যথা সাধারণত ভাইরাসজনিত হলে কয়েকদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু যদি ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, গলা ফুলে যায় বা পুঁজ দেখা দেয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া গলা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর, বা গলার কর্কশ কণ্ঠ থাকলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
গলা ব্যথার যে পর্যায়ে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে
- গলা ব্যথা তীব্র ও অবিরাম হলে
- গিলতে বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে
- উচ্চ জ্বর (৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি) থাকলে
- গলার টনসিল ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দিলে
- গলার কর্কশ কণ্ঠ বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হলে
- গলা বা ঘাড়ে পিণ্ড বা ফোলা অনুভূত হলে
- লক্ষণ এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
- ঘুম, খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা হলে
- শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
- পুনরাবৃত্তিমূলক গলা ব্যথা হলে
ব্যক্তিগত মতামতঃ গলা ব্যথা হলে করণীয় কি
গলা ব্যথা হলে করণীয় কি, এই প্রশ্নটি আমাদের প্রায়ই ভাবায়। আমার মতে, এর সেরা সমাধান লুকিয়ে আছে সাধারণ যত্নেই। গলাকে বিশ্রাম দেওয়া, কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করা, এবং আদা-মধু-লেবুর উষ্ণ পানীয় পানের মতো ঘরোয়া উপায়গুলোই সবচেয়ে কার্যকর। এগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত আরাম দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, ব্যথা তীব্র হলে বা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
FAQ:
১। প্যারাসিটামল খেলে কি গলা ব্যথা কমে?
হ্যাঁ, প্যারাসিটামল গলা ব্যথা কমাতে কার্যকর। এটি ব্যথা উপশম করে এবং জ্বর কমায়।
২। গলা ব্যাথার জন্য ডাইক্লোফেনাক খাওয়া যাবে কি?
ডাইক্লোফেনাক একটি NSAID, যা প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত, কারণ এটি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
৩। সর্দি ও ফ্লু গলা ব্যাথার জন্য প্যানাডল কি ভালো?
হ্যাঁ, প্যানাডল (প্যারাসিটামল) সর্দি, ফ্লু ও গলা ব্যথার জন্য ভালো ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ঔষধ।
৪। গলা ব্যথার ঔষধ এন্টিবায়োটিক
এন্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াজনিত গলা সংক্রমণের জন্য প্রয়োজন। ভাইরাল সংক্রমণে এন্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়।
৫। দীর্ঘদিন গলা ব্যথার কারণ কী হতে পারে?
- ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সংক্রমণ
- অ্যালার্জি বা শুষ্ক বাতাস
- গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD)
- গলার টিউমার বা পিণ্ড
- ধূমপান ও দূষণ
- টেনশন বা অতিরিক্ত কণ্ঠব্যবহার।

BSES+Advance Nutritionist