পেটে গ্যাস হলে অস্বস্তি, ঢেকুর, ব্যথা—এগুলো যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ঘরে থাকা কিছু উপাদানেই গ্যাস থেকে মুক্তি মেলে। যেমন—আদা, জিরা, অজওয়াইন, হিং ও গরম পানি। গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়- দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন, চর্বি কমান, আর নিয়মিত হাঁটুন। সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানি খাওয়াটা খুব উপকারী।
গ্যাসের সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। এটি হজমের গোলমাল, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে হতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে ঘরোয়া উপায়গুলি সহজলভ্য এবং কার্যকর।
এই প্রবন্ধে আমরা গ্যাসের সমস্যা দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় আলোচনা করব।
গ্যাসের সমস্যা কী?
পেটে অতিরিক্ত বাতাস বা অ্যাসিড তৈরি হলে গ্যাস হয়। এতে পেট ফুলে যায়, ঢেকুর ওঠে, হালকা ব্যথা হয়। অনেক সময় মনে হয় পেট শক্ত হয়ে গেছে।
গ্যাসের কারণ
গ্যাস্ট্রিক এসিড পেটে থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন তা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তা গ্যাস, বদহজম, বুকজ্বালা ও পেট ব্যথা তৈরি করে।
- খালি পেটে থাকা
- অতিরিক্ত চর্বি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্যাস বাড়ায়
- অতিরিক্ত ঝাল বা ভাজাভুজি খাওয়া
- বেশি খাওয়া বা তাড়াহুড়ো করে খেলে গ্যাস হয়
- কাঁচা শাকসবজি বা ডাল বেশি খাওয়া
- কোনো নির্দিষ্ট খাবার হজমে সমস্যা করলেও গ্যাস হতে পারে
- কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে গ্যাস বেড়ে যায়
- অতিরিক্ত স্ট্রেস ও টেনশন
WHO-র মতে, বিশ্বের প্রায় ৩০% মানুষ নিয়মিত গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভোগেন।
গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় – ১২টি কার্যকর টিপস
নিশ্চয়ই! গ্যাস বা পাকস্থলীর অস্বস্তি অনেকেই ভোগেন। বাড়িতেই কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় আছে যা গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। নিচে গ্যাস সমস্যা দূর করার কিছু কার্যকর ঘরোয়া টিপস দিলাম:
১. আদা চা খান
আদা পাচন শক্তি বাড়ায় এবং পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে। ১ কাপ গরম পানিতে ১ চা চামচ কুচানো আদা দিয়ে ৫ মিনিট। ফুটান ছেঁকে নিয়ে হালকা গরম অবস্থায় খান। দিনে ২ বার খাওয়া ভালো।
২. জিরা পানি পান করুন
জিরা পাকস্থলীর গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ জিরা ১ কাপ পানিতে ৫ মিনিট ফুটান। ঠান্ডা হলে ছেঁকে পান করুন। খাবারের আগে বা পরে পান করলে বেশি উপকার পাবেন।
৩. হিং পানিতে মিশিয়ে খান
হিং হজমে সহায়ক এবং পেট ফোলাভাব কমায়। ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি হিং মেশান। ভালোভাবে নেড়ে খালি পেটে খান।
৪. লেবু ও বেকিং সোডার মিশ্রণ
এই মিশ্রণ হজমে সহায়তা করে এবং পেটের গ্যাস কমায়।
তৈরি করবেন যেভাবে:
- ১ গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস ও আধা চা চামচ বেকিং সোডা মেশান
- সঙ্গে সঙ্গে পান করুন
দিনে ১ বারই যথেষ্ট। বেশি খাওয়া ঠিক না।
৫. তেঁতুল ও লবণ
তেঁতুল হজমে সাহায্য করে এবং পেট ঠান্ডা রাখে। কিছুটা তেঁতুল চটকে তার সঙ্গে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খান। চাইলে অল্প পানি মিশিয়ে নিতে পারেন।
৬. পুদিনা পাতার রস
পুদিনা হজমে সহায়ক এবং পেট ঠান্ডা রাখতে কার্যকর।
ব্যবহার পদ্ধতি:
- কিছু পুদিনা পাতা বেটে রস বের করুন
- ১ চা চামচ রস পান করুন
দিনে ২-৩ বার খেতে পারেন।
৭. তুলসী পাতা চিবান
তুলসী পাতা অম্বল ও গ্যাস কমায়। খালি পেটে ৪-৫টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খান। অথবা তুলসী পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।
৮. গরম পানি পান করা
খাবারের পরে হালকা গরম পানি গ্যাস বের হতে সাহায্য করে। প্রতিবার খাবারের পরে আধা কাপ গরম পানি পান করুন। অতিরিক্ত গ্যাসের সময় এক গ্লাস পান করলেও উপকার পাবেন।
৯. টক দই খান
টক দইয়ে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে যা হজমে সাহায্য করে। দুপুর বা রাতের খাবারের সঙ্গে ১ বাটি টক দই খান।
১০. চালকুমড়া বা পেপে খাওয়া
এই ফলগুলো হজমে সহায়ক এবং গ্যাস কমায়। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ পাকা পেপে বা চালকুমড়া খেতে পারেন।
১১. দ্রুত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
খাওয়ার পরে কিছুক্ষণ হাঁটলে গ্যাস বের হতে সাহায্য হয়। খাওয়ার ১৫-৩০ মিনিট পরে ১০ মিনিট হাঁটুন।
১২. পেট ম্যাসাজ করুন
পেটের গ্যাস বের করতে হালকা ম্যাসাজ কার্যকর। ঘড়ির কাঁটার দিকে ধীরে ধীরে পেটে মালিশ করুন। তেল (যেমন নারকেল তেল বা সরিষার তেল) ব্যবহার করতে পারেন।
Quora আর Reddit-এ হাজার হাজার প্রশ্ন ঘুরছে গ্যাস নিয়ে।
একজন লিখেছেন, “ একদিন জিরা পানি খেলাম, পরদিনই পেট হালকা!”
আরেকজন বলল, “হিং এত কাজের জিনিস জানতাম না!”
সতর্কতা
- বারবার গ্যাস হলে ও ঘরোয়া উপায়ে উপকার না পেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
- অতিরিক্ত চা, কফি, ঝাল, ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন
- ধূমপান ও অতিরিক্ত চুইংগাম চিবানো গ্যাস বাড়ায়
কোন খাবার এড়াতে হবে গ্যাসের সমস্যা হলে?
গ্যাসের সমস্যা যাদের বেশি হয়, তাদের কিছু খাবার এড়িয়ে চলা খুব জরুরি। নিচে গ্যাস সৃষ্টি করে এমন খাবারগুলোর একটি তালিকা দিলাম:
১. ডাল ও শুঁটি জাতীয় খাবার (মসুর ডাল, মুগ ডাল, সয়াবিন, বুট, ছোলা)। ডালে থাকা কার্বোহাইড্রেট হজম হতে সময় নেয়, ফলে গ্যাস হয়। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে ভিজিয়ে খেলে সমস্যা কম হতে পারে।
২. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার (Lactose intolerance থাকলে)। তরল দুধ, চিজ, কনডেন্সড মিল্ক। যাদের দুধ সহ্য হয় না, তাদের দুধ খেলে পেটে ফেঁপে যায় বা গ্যাস হয়। দুধ খাওয়ার পর যদি পেট গরম লাগে বা গ্যাস হয়, তবে এড়িয়ে চলুন।
৩. তেল-ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার।ভাজাপোড়া খাবার, বেশি মরিচ বা মশলা ব্যবহার করা রান্না, ফাস্টফুড (বার্গার, পিৎজা, সিঙ্গারা, সমোসা)। এই ধরনের খাবার হজমে সমস্যা করে, পেট ভার লাগে।
৪. কোমল পানীয় ও কার্বনেটেড ড্রিংক (কোলা, সোডা, এনার্জি ড্রিংক)। এইসব পানীয়তে গ্যাস ঢুকিয়ে রাখা হয়, যা পেটে ঢুকে গ্যাস তৈরি করে।
৫. চিবিয়ে খাওয়া যায় না এমন ফল ও সবজি। কিছু ফল ও সবজি হজমে সময় নেয় ও গ্যাস বাড়ায়।
৬. চুইংগাম ও ক্যান্ডি। চুইংগাম বা ক্যান্ডি খাওয়ার সময় অনেক বাতাস পেটে ঢুকে পড়ে, ফলে গ্যাস হয়।
৭. ময়দা জাতীয় খাবার (পাস্তা, নুডলস, বিস্কুট ও কেক)। রুটি, পরোটা, নান – যদি বেশি খাওয়া হয়।
৮. প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed food)
এগুলোর মধ্যে থাকে কেমিক্যাল ও সংরক্ষণকারী পদার্থ যা হজমে সমস্যা করে।
- প্যাকেট স্ন্যাকস
- ইনস্ট্যান্ট নুডলস
- ফ্রোজেন খাবার
অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ
- ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে চেষ্টা করুন। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি খান
- পানির পরিমাণ বাড়ান।
- প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা হাঁটাচলা করুন।
- একবারে বেশি খাবেন না, অল্প করে বারবার খান।
- রাতে দেরিতে খাবেন না
- নিয়মিত ঘুম দরকার, দিনে কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা
- টানা বসে কাজ না করে বিরতি নিন
Dr. Zahid Zubair MBBS, MD, DrNB (Gastroenterology) বললেন, “গ্যাস একবার হলে ওষুধ লাগেনা সবসময়। ঘরোয়া উপায়ে ৭০% রোগী ঠিক হয়ে যান। শুধু খাবারে ও লাইফস্টাইলে সচেতন থাকলেই হবে।”
গ্যাসের সমস্যা হলে ডাক্তার কবে দেখাতে হবে?
- ব্যথা তীব্র হলে
- গ্যাসে পেট ফুলে যায় বারবার
- খাওয়া-দাওয়া কমে গেলে
- গ্যাসের সঙ্গে বমি বা জ্বর হলে
গ্যাস সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্পর্ক

গ্যাস সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অনেক সময় একটিকে অন্যটির কারণ বা ফলাফল হিসেবে দেখা যায়। নিচে এই দুই সমস্যার সম্পর্ক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো
কোষ্ঠকাঠিন্য কী?
কোষ্ঠকাঠিন্য হলো যখন আপনার মল খুব শক্ত হয়ে যায় বা সপ্তাহে ৩ বার বা তার কম পায়খানা হয়, এবং পায়খানার সময় কষ্ট হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে গ্যাস হয় কেন?
১. মল পেটে জমে থাকে: যখন পেট পরিষ্কার হয় না, তখন খাদ্য পচে গ্যাস তৈরি করে।
২. আঁশ ও পানি কম খেলে: আঁশ ও পানি হজমে সাহায্য করে। এগুলোর ঘাটতি কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস দুই-ই বাড়ায়।
৩. বদহজম ও ফাঁপা ভাব: মল জমে থাকলে পাকস্থলীর স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়, ফলে পেট ফেঁপে যায়, বুক জ্বালা করে।৪. পেটের ভেতরে চাপ সৃষ্টি হয়: জমে থাকা মল পেটের ভিতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, যা গ্যাস ও অস্বস্তি বাড়ায়।
লক্ষণগুলো একসঙ্গে দেখা যায়
লক্ষণ | কোষ্ঠকাঠিন্য | গ্যাস সমস্যা |
মলত্যাগে কষ্ট | ✅ | ❌ |
পেট ফাঁপা ও ঢেকুর | ❌ | ✅ |
পেট ব্যথা ও ভার লাগা | ✅ | ✅ |
খাওয়ার পর অস্বস্তি | ✅ | ✅ |
বারবার ঢেকুর বা গ্যাস বের হওয়া | ❌ | ✅ |
একসঙ্গে এই দুই সমস্যা দেখা দিলে মূল চিকিৎসা হওয়া উচিত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা।
কী করলে উপকার পাবেন?
বেশি আঁশযুক্ত খাবার খান: শাকসবজি (লাউ, পালং, পুঁই), ফল (পাকা পেপে, কলা, আপেল), ওটস, লাল চাল।
পানি বেশি খান: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস। সকালে খালি পেটে ১-২ গ্লাস কুসুম গরম পানি।
নিয়মিত হাঁটাহাঁটি: খাওয়ার পরে অন্তত ১৫ মিনিট হেঁটে নিন। সকালের হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম (যেমন “পবনমুক্তাসন”) খুব উপকারী।
সময়মতো পায়খানার অভ্যাস: পায়খানা চেপে রাখবেন না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বসার অভ্যাস করুন।
কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?
- ৭ দিনের বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য
- পেট ফুলে ঢোলের মতো হয়ে গেলে
- গ্যাসের সঙ্গে মাথা ঘোরা, বমি ভাব
- পায়খানায় রক্ত দেখা গেলে
গর্ভাবস্থায় গ্যাস হলে কী করবেন?
গর্ভাবস্থায় অনেক মায়েরই পেট ফুলে যায়, ঢেঁকুর ওঠে, গ্যাস আটকে থাকে বা পেট ব্যথা করে। এটা খুব সাধারণ সমস্যা, কিন্তু অস্বস্তিকর।
তবে চিন্তার কিছু নেই—কিছু সহজ নিয়ম মানলে গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
কেন গর্ভাবস্থায় গ্যাসের সমস্যা হয়?
গর্ভাবস্থার সময় মায়ের শরীরে নানা হরমোনের পরিবর্তন হয়। এটাই গ্যাসের প্রধান কারণ।
১. হরমোনের প্রভাব (Progesterone)
এই হরমোন পেশি ঢিলে করে দেয়, যাতে গর্ভাশয় বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু এতে হজমতন্ত্রও ধীর হয়ে যায়। ফলে খাবার ধীরে হজম হয়, গ্যাস জমে।
২. বাচ্চার চাপ পেটের উপর পড়ে
যত মাস যায়, গর্ভে থাকা শিশুর ওজন বাড়ে। ফলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের উপর চাপ পড়ে। এতে খাবার হজমে সমস্যা হয় ও গ্যাস হয়।
৩. খাবারের পর হজমে সময় লাগে বেশি
গর্ভাবস্থায় হজম ধীর হয়, ফলে খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকে এবং গাঁজন হয়ে গ্যাস তৈরি করে।
৪. কম পানি খাওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
অনেক গর্ভবতী মা কম পানি খান বা আঁশযুক্ত খাবার খান না—ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, যা গ্যাস বাড়ায়।
গর্ভাবস্থায় গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

১. কম করে বারবার খাবার খান। একবারে বেশি খেলে গ্যাস হয়। ছোট ছোট পরিমাণে দিনে ৫–৬ বার খেতে চেষ্টা করুন।
২. গরম পানি পান করুন। খাবারের ৩০ মিনিট পরে এক গ্লাস হালকা গরম পানি গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
৩. রাতে ১ চা চামচ জিরা/মেথি ভিজিয়ে সকালে পানি পান করুন।
৪. আদা ও পুদিনা হজমে সাহায্য করে। চায়ের মতো করে ফুটিয়ে পান করতে পারেন (চিকিৎসকের পরামর্শে)।
৫. সোজা হয়ে বসুন ও হাঁটুন। খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটুন। শুয়ে পড়বেন না। এতে হজম ভালো হয়।
৬. ফাইবার ও পানি বাড়ান। প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন। ফল, সবজি, ওটস, দই—এসব খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে ও গ্যাসও কমে।
৭. চিন্তা করবেন না, মন শান্ত রাখুন। চিন্তা বা স্ট্রেসে হজম খারাপ হয়, গ্যাস বাড়ে। তাই নিজেকে শান্ত রাখুন।
গর্ভাবস্থায় গ্যাসের সমস্যায় কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?
- যদি গ্যাসের সঙ্গে বমি হয়
- পেটে তীব্র ব্যথা হয়
- বুকে জ্বালাপোড়া বা শ্বাসকষ্ট হয়
- ওষুধ ছাড়া আরাম না হয়
মনে রাখবেন: গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
গ্যাসের সমস্যা অস্বস্তিকর হলেও ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। শুধু দরকার কিছু ঘরোয়া কৌশল, খাবারে নিয়ম, আর একটু সচেতনতা। প্রাকৃতিক উপায়ে শরীর ঠিক থাকলে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন কমবে। তবে সমস্যা যদি নিয়মিত হয়, ডাক্তার দেখানো জরুরি।
এই লেখা যদি আপনার উপকারে আসে, একজন প্রিয়জনকে অবশ্যই শেয়ার করুন। কেউ একজন হয়তো আপনাকে ধন্যবাদ দেবে আজ, আর আপনি জানবেন—আপনি সঠিক তথ্য ছড়িয়েছেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
গ্যাসের কারণে কোমর ব্যথা হয়?
হ্যাঁ, এটা সত্যি! গ্যাস যখন পেটে চাপ সৃষ্টি করে, তখন সেটি পিঠ ও কোমরের দিকে ব্যথা পাঠাতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস নিচের পেটের দিকে জমলে তা কোমরের দুপাশে টান অনুভব করায়।
সকালে গ্যাসের সমস্যা বেশি কেন?
সারা রাত না খেয়ে থাকার পর, সকালে অনেকেরই হজম তেমন ভালো থাকে না।
বিশেষ করে যারা রাতের খাবার দেরিতে খান বা হজম না হওয়া কিছু খান, তাদের সকালে গ্যাস বেশি হয়। এতে বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, এমনকি বমি ভাব পর্যন্ত হয়।
গ্যাসের সমস্যা কি হার্ট অ্যাটাকের মত ব্যথা দিতে পারে?
হ্যাঁ, অনেক সময় গ্যাসের চাপ বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে ব্যথা সৃষ্টি করে যা হার্ট অ্যাটাকের মত মনে হতে পারে। তবে হার্ট অ্যাটাক হলে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, এবং দুর্বলতা থাকে। সন্দেহ হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।
চা বা কফি খেলে কি গ্যাস বাড়ে?
খালি পেটে চা বা কফি খেলে এসিড তৈরি হয়, যা গ্যাস বাড়ায়। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত কফি খান, তাঁদের পেটে অম্বল ও ফোলাভাব হতে পারে।
কোন ভিটামিনের অভাবে গ্যাসের সমস্যা বাড়ে?
ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন D-এর ঘাটতি হজমে প্রভাব ফেলে, ফলে গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
ঘন ঘন গ্যাস হলে কি লিভারের সমস্যা হতে পারে?
গ্যাস্ট্রিক মূলত পাকস্থলীর সমস্যা, তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, হজমের গোলমাল থাকলে লিভার এনজাইম পরীক্ষা করা উচিত। কারণ কিছু ক্ষেত্রে লিভার ফাংশন সমস্যার কারণ হতে পারে।

BSES+Advance Nutritionist