পায়ের গোড়ালির উপরে ব্যথার প্রধান কারণ হলো টেন্ডনাইটিস, প্লান্টার ফ্যাসাইটিস, আর্থ্রাইটিস বা আঘাত।
পায়ের গোড়ালি আমাদের শরীরের ভার বহন করে, তাই এটি ব্যথার একটি সাধারণ স্থান। অনেকেই হঠাৎ বা দীর্ঘস্থায়ীভাবে গোড়ালির উপরে ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। এই ব্যথা চলাফেরায় অসুবিধা তৈরি করে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করতে পারে।
এটি সাধারণত আঘাত, অতিরিক্ত হাঁটা, টেন্ডনের প্রদাহ, আর্থ্রাইটিস বা প্লান্টার ফ্যাসাইটিসের কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় ব্যথার সঙ্গে ফোলা বা জড়তাও দেখা দেয়।
এই সমস্যার দ্রুত সমাধান ও সঠিক চিকিৎসার জন্য ব্যথার ধরন, স্থান ও তীব্রতা বোঝা জরুরি। চলুন জেনে নিই এর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পায়ের গোড়ালির উপরের ব্যথা সাধারণত প্লান্টার ফ্যাসাইটিস, ক্যালকেনিয়াম স্পার, গাটে বাত এবং অ্যাকিলিস টেন্ডিনাইটিসের কারণে দেখা দিতে পারে। এই ব্যথা উপশমে হালকা স্ট্রেচিং, আরামদায়ক জুতা পরিধান এবং গরম-ঠান্ডা সেঁকের প্রয়োগ অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়াও আদা চা, মেথির বীজ ও ভেষজ তেল – বিশেষ করে তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল মালিশ – যথেষ্ট উপকারী। দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা বজায় রাখা জরুরি।
গোড়ালির ব্যথার কারণ (Causes of Ankle Pain)
পায়ের গোড়ালির ব্যথা বা পায়ের গোড়ালির উপরে ব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি অস্বস্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হতে পারে। এই ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে এবং তাৎক্ষণিক বা দীর্ঘস্থায়ী উভয় রকম হতে পারে।
নিচে গোড়ালির ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ ও সম্ভাব্য কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
Plantar Fasciitis (প্লান্টার ফ্যাসাইটিস):
এটি গোড়ালির নিচে ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ। পায়ের পাতার নিচের পাতলা লিগামেন্টে টান পড়লে এই সমস্যা হয়। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম পা ফেললে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়।
Achilles Tendinitis (অ্যাকিলিস টেন্ডনাইটিস):
গোড়ালির পেছনে অ্যাকিলিস টেন্ডনে প্রদাহ সৃষ্টি হলে ব্যথা হয়। বেশি হাঁটা, দৌড়ানো বা অনিয়মিত ব্যায়ামের কারণে এটি হয়।
Sprain or Injury (মচকানো বা আঘাত):
খারাপভাবে পড়ে যাওয়া, দুর্ঘটনা, বা খেলাধুলার সময় গোড়ালিতে আঘাত লাগলে ব্যথা দেখা দেয়। মচকানো হলে লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
Osteoarthritis (অস্টিওআর্থ্রাইটিস):
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে হাড়ের সন্ধিতে ক্ষয় হলে এই আর্থ্রাইটিস হয়, যা গোড়ালিতে ব্যথা ও শক্তভাব সৃষ্টি করে।
Rheumatoid Arthritis (রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস):
এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম নিজের সন্ধিকে আক্রমণ করে, ফলে গোড়ালিতে প্রদাহ ও ব্যথা হয়।
Gout (গাউট):
রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমে গেলে সন্ধিতে স্ফীত ও তীব্র ব্যথা হয়, বিশেষ করে রাতের বেলা বা বিশ্রামের সময়।
Fracture (হাড়ে চিড়):
গুরুতর আঘাতে গোড়ালির হাড় ভেঙে গেলে বা চিড় ধরলে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা ও ফোলা দেখা দিতে পারে।
Infection (সংক্রমণ):
গোড়ালিতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে ব্যথার পাশাপাশি লালচে ভাব, উত্তাপ ও জ্বর দেখা দিতে পারে।
গোড়ালির ব্যথার লক্ষণ (Symptoms of Ankle Pain)
পায়ের গোড়ালির ব্যথা আথবা পায়ের গোড়ালির উপরে ব্যথা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়, যা নির্ভর করে ব্যথার কারণ ও অবস্থার উপর। নিচে সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হলো:
ব্যথা (Pain): হাঁটলে, দাঁড়ালে বা চলাফেরার সময় গোড়ালিতে ব্যথা অনুভূত হওয়া সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
ফোলা (Swelling): গোড়ালির চারপাশে হালকা থেকে তীব্র ফোলাভাব দেখা দিতে পারে, যা আঘাত বা প্রদাহের ইঙ্গিত হতে পারে।
লালচে ভাব ও উত্তাপ (Redness and Warmth): আক্রান্ত স্থানে ত্বক লাল দেখাতে পারে এবং ছুঁলেই গরম অনুভব হতে পারে, যা সংক্রমণ বা প্রদাহের লক্ষণ।
জড়তা বা শক্তভাব (Stiffness): গোড়ালির সন্ধি শক্ত বা কম নড়াচড়া হতে পারে, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা বিশ্রামের পর।
চলাফেরায় অসুবিধা (Difficulty in Movement): স্বাভাবিকভাবে হাঁটা বা পা রাখাতে কষ্ট হওয়া, পায়ে চাপ দিলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা যেতে পারে।
আচমকা ব্যথা (Sudden Sharp Pain): বিশেষত গাউট বা ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।
নীলচে বা কালচে দাগ (Bruising): গোড়ালির চারপাশে আঘাতজনিত রক্ত জমাট বাঁধলে রঙ পরিবর্তন দেখা যায়।
জ্বর (Fever): যদি ব্যথা সংক্রমণজনিত হয়, তাহলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ দেখা গেলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষত যদি ব্যথা কয়েকদিনের বেশি স্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে।
পায়ের গোড়ালি ফোলা ও ব্যথা

পায়ের গোড়ালি ফোলা ও ব্যথা সাধারণত অতিরিক্ত চাপ, আঘাত, আর্থ্রাইটিস বা অনিয়মিত খাদ্যের কারণে দেখা দেয়। ব্যথা কমাতে হালকা স্ট্রেচিং, আরামদায়ক জুতা পরিধান ও গরম-ঠান্ডা সেঁক বেশ কার্যকর। আদা চা, মেথির বীজ, তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল সহ ভেষজ তেল ব্যবহার করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম রক্তসঞ্চালনা বাড়ায় ও ব্যথা কমায়। সুস্থ খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন, যাতে দ্রুত সুস্থতা ও আরাম নিশ্চিত হয়। আর প্রতিদিন শান্তিতে দিন কাটান।
পায়ের গোড়ালির উপরের ব্যথার ঘরোয়া সমাধান (Home Remedies for Ankle Pain)
পায়ের গোড়ালি ব্যথা অনেক সময় খুব অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে এটি ঘরোয়া উপায় দিয়েও সামাল দেওয়া সম্ভব। যদিও গুরুতর পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি উপশমের জন্য কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি সাহায্য করতে পারে। নিচে পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর জন্য কিছু সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া সমাধান দেওয়া হলো:
আইস প্যাক (Ice Pack)
গোড়ালিতে ফোলা ও ব্যথা কমাতে আইস প্যাক খুবই কার্যকর। এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং গোড়ালির টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ বেঁধে ব্যথার জায়গায় ১৫-২০ মিনিট রাখুন। তবে, সরাসরি ত্বকে বরফ না লাগানোর চেষ্টা করুন।
গরম পানি ও ইপসম সল্ট (Warm Water and Epsom Salt)
গরম পানিতে ইপসম সল্ট মিশিয়ে গোড়ালি ডুবিয়ে রাখুন। এতে পেশীর ক্লান্তি দূর হবে এবং ব্যথা কমবে। ইপসম সল্টে থাকা ম্যাগনেসিয়াম গোড়ালির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
হালকা স্ট্রেচিং (Light Stretching)
গোড়ালির ব্যথা ও স্থবিরতা কমানোর জন্য হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন। তবে, স্ট্রেচিং করার সময় অতিরিক্ত চাপ বা জোর না দেওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ এটি ব্যথা বাড়াতে পারে।
হলুদের পেস্ট (Turmeric Paste)
হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একটি পেস্ট তৈরি করে গোড়ালিতে লাগান এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
নুন দিয়ে ম্যাসাজ (Salt Massage)
সামান্য গরম পানি ও নুন দিয়ে পা ম্যাসাজ করলে ব্যথা উপশম হতে পারে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং গোড়ালির পেশীতে শিথিলতা আনার জন্য কার্যকর।
এলব্যলিস অয়েল (Lavender Oil)
এলব্যলিস অয়েল বা মেন্টল অয়েলও গোড়ালির ব্যথা কমাতে সহায়ক। এটি ব্যথার স্থানেও শিথিলতা সৃষ্টি করে। কয়েক ফোটা এলব্যলিস অয়েল গরম পানির মধ্যে দিয়ে গোড়ালি ডুবিয়ে রাখুন বা সোজা মলম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েলের ম্যাসাজ
তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল ব্যবহার করলে পেশী শিথিল হয় এবং পায়ের গোড়ালি উপরে ব্যথা, বাম হাতের জয়েন্টে ব্যথা কমে। এটি প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যথা কমানোর জন্য কার্যকর। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই অয়েলের সাহায্যে দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী আরাম পাওয়া যায়।
বিশ্রাম নেওয়া (Rest)
গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরি। কিছুদিন হাঁটার পরিমাণ কমিয়ে, পায়ের উপর চাপ না দেওয়ার চেষ্টা করুন।
উচ্চতায় রাখা (Elevation)
গোড়ালির ফোলাভাব কমাতে পা উপরের দিকে রেখে বিশ্রাম নিন। এটি রক্ত চলাচল সাহায্য করে এবং ফোলাভাব কমিয়ে আনে।
হোয়াইট ওয়েট প্লাস ডায়েট (Healthy Diet and Weight Control)
অতিরিক্ত শরীরের ওজন গোড়ালির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে গোড়ালির ব্যথা কমানো যায়।
কম্প্রেশন (Compression)
গোড়ালিতে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ বা রাবার ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ফোলা কমাতে সহায়ক। তবে, খুব টাইট না করে যেন রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর জন্য এই ঘরোয়া উপায়গুলো অনেক সময় সাহায্য করতে পারে। তবে, যদি ব্যথা গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই সমাধানগুলো প্রাথমিকভাবে হালকা ব্যথা ও অস্বস্তির জন্য কার্যকর, কিন্তু নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
পায়ের গোড়ালি ব্যথার চিকিৎসা (Treatment for Ankle Pain)

পায়ের গোড়ালি ব্যথা নানা কারণে হতে পারে এবং এর চিকিৎসা নির্ভর করে ব্যথার ধরণ, কারণ এবং তীব্রতার উপর। নিচে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি আলোচনা করা হলো, যা গোড়ালির ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে:
১. আরএআইসিডি (NSAIDs) – অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (Anti-inflammatory Medications)
- ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে:
গোড়ালির ব্যথা কমাতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোকসেন ব্যবহার করা হয়। এগুলি প্রদাহ কমাতে এবং ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। তবে, এই ধরনের ওষুধ দীর্ঘদিন নেওয়া উচিত নয়, তাই ডাক্তারকে পরামর্শ করুন।
২. ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy)
- পেশী শক্তিশালী করা ও রিহ্যাব:
ফিজিওথেরাপি মাধ্যমে বিশেষ ধরনের ব্যায়াম ও স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে গোড়ালির পেশী শক্তিশালী করা হয় এবং ফোলাভাব কমানো হয়। এটি ব্যথার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি।
৩. অর্থোথিক্স (Orthotics)
যদি গোড়ালির ব্যথা পায়ের আকার বা হাঁটার ভুল পদ্ধতির কারণে হয়, তাহলে অস্থির পাদুকা বা ইনসোল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পা ও গোড়ালির যথাযথ সাপোর্ট প্রদান করে।
৪.স্টেরয়েড ইনজেকশন (Steroid Injections)
গুরুতর প্রদাহের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে। এটি প্রদাহ কমাতে এবং তীব্র ব্যথা উপশম করতে সহায়ক।
৫. সার্জারি (Surgery)
যদি গোড়ালির আঘাত বা প্রদাহ অনেক সময় ধরে স্থায়ী হয়ে যায় এবং অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে কাজ না করে, তবে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। এটি সাধারণত ফ্র্যাকচার, লিগামেন্ট ক্ষত বা হাড়ের অন্য সমস্যা সংশোধনের জন্য করা হয়।
Note: গোড়ালির ব্যথার চিকিৎসা অনেক সময় সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত এবং গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।
আমি কখন একজন ডাক্তারকে দেখাব?
- ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
- চলাফেরা করতে অসুবিধা হলে
- গোড়ালিতে প্রচণ্ড ফোলা বা লালচে ভাব দেখা দিলে
- জ্বর বা অন্য সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে
- দুর্ঘটনার পর হাঁটতে না পারলে
গোড়ালির ব্যথা প্রতিরোধ
- সঠিক আকার ও নরম সোলযুক্ত জুতা ব্যবহার করুন
- নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং করুন
- অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- চলাফেরার সময় পায়ে অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকে বিরত থাকুন
- দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে মাঝে মাঝে বসুন বা বিশ্রাম নিন
উপসংহার
পায়ের গোড়ালির উপরে ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে—আঘাত, প্রদাহ, আর্থ্রাইটিস, অথবা অতিরিক্ত হাঁটা।
দ্রুত নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা, এবং প্রয়োজনে ঘরোয়া পদ্ধতির সাহায্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা জটিলতা দেখা দিলে অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. পায়ের গোড়ালির ব্যথা কি চিরস্থায়ী হতে পারে?
না, অধিকাংশ পায়ের গোড়ালির উপরে ব্যথা সঠিক বিশ্রাম, চিকিৎসা এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে পুরোপুরি সেরে যায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী আর্থ্রাইটিস বা টেন্ডন ক্ষতির ক্ষেত্রে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি।
২. ব্যথা না থাকলেও গোড়ালিতে মাঝে মাঝে ঝিমঝিম বা ভারী অনুভব হলে কি তা উদ্বেগজনক?
হ্যাঁ, এটি শুরুর কোনো স্নায়বিক সমস্যা, ব্লাড সার্কুলেশন দুর্বলতা বা প্রদাহের সূচক হতে পারে। সময়মতো পর্যালোচনার জন্য একজন অর্থোপেডিক বা নিউরোলজিস্ট দেখানো ভালো।
৩. কোন ওষুধগুলি পায়ের গোড়ালির উপরে ব্যথা উপশমে কার্যকর, কিন্তু নিরাপদ?
সাধারণত আইবুপ্রোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. গর্ভাবস্থায় পায়ের গোড়ালির ব্যথা হলে কী করণীয়?
গর্ভাবস্থায় হরমোনজনিত পরিবর্তন ও ওজন বৃদ্ধির কারণে ব্যথা হতে পারে। হালকা ব্যায়াম, পা উঁচু করে রাখা, আরামদায়ক জুতা ব্যবহার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যাসাজ বা ফিজিওথেরাপি সাহায্য করতে পারে।
৫. পায়ের গোড়ালির ব্যথা প্রতিরোধে কোন খাদ্য উপকারী?
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাদ্য যেমন আদা, হলুদ, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ (যেমন স্যামন), বাদাম, এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাটা সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য হাড়ের সুস্থতায় সহায়তা করে।

BSES+Advance Nutritionist