ব্যাথা নিরাময়ে বিশস্ত সঙ্গি

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ: সতর্ক না হলে বিপদ বাড়তে পারে!

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

কোমরের দুই পাশে ব্যথার সাধারণ কারণগুলো হলো:

– কিডনির সমস্যা

– মাংসপেশির টান বা আঘাত

– নার্ভে চাপ (সায়াটিকা)

– ইউরিনারি ইনফেকশন

– হজম সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিক

– মেয়েদের মাসিকজনিত ব্যথা

– ভুল ভঙ্গি বা বেশি বসে থাকা

আপনার কোমরের দুই পাশে হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়েছে? মনে হচ্ছে পেছনের দিকটা টান দিচ্ছে? কেউ কেউ ভাবে এটা শুধু ক্লান্তি। কেউ বলে “হয়তো গ্যাস্ট্রিক”। কিন্তু প্রতিদিন এই ব্যথা যদি বাড়ে, তাহলে সেটাকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

এই লেখায় আমরা জানব, কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ, কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে, কিভাবে বুঝব কোন দিকে যেতে হবে। ব্যথা নিয়ে আর ভয় নয়—জেনে নিন সঠিক তথ্য, নিজেকে রক্ষা করুন।

Table of Contents

কোমর ব্যথা কি?

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

কোমর ব্যথা হলো পিঠের নিচের অংশে, বিশেষ করে মেরুদণ্ডের নিচের দিক এবং তার দুই পাশে অনুভূত হওয়া ব্যথা। এই ব্যথা কখনো হালকা, কখনো তীব্র হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটা একপাশে হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে দুই পাশেই হতে পারে।

কোমর ব্যথার উপসর্গগুলি

  • ধীরে ধীরে শুরু হয় ব্যথা।
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে বেশি টের পাওয়া যায়।
  • পা পর্যন্ত টানে ব্যথা।
  • চলাফেরা বা বসার সময় বাড়ে।
  • জ্বালা বা গরম ভাব কোমরের পাশে।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা রক্ত (কিডনি ইনফেকশনের ক্ষেত্রে)।

কারা বেশি ভোগেন?

  • যাঁরা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন
  • ভারী কাজ বা হঠাৎ ওজন তোলেন
  • নারীরা মাসিক বা সন্তান ধারণের সময়
  • বয়স্ক ব্যক্তিরা হাড় ক্ষয়ের কারণে

কোমর ব্যথার প্রকারভেদ

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

কোমরের দুই পাশে ব্যথা একেবারে হালকা থেকে শুরু করে তীব্রও হতে পারে। কখনো এটা কয়েক ঘণ্টা থাকে, আবার কখনো দিনের পর দিন সঙ্গী হয়ে থাকে। নিচে এর সম্ভাব্য কারণগুলো দেওয়া হলো:

১. কিডনির সমস্যা

কিডনিতে পাথর, ইনফেকশন বা কিডনি ফেইলিওরের কারণে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে।
উপসর্গ:

  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
  • প্রস্রাবে দুর্গন্ধ বা রক্ত
  • জ্বর, কাঁপুনি
  • বমি বমি ভাব

২. মাংসপেশির টান বা চোট

হঠাৎ ভারী কিছু তোলা বা ভুলভাবে বসলে পেশিতে টান পড়ে। এতে কোমরের পাশে ব্যথা হয়।
উপসর্গ:

  • চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে
  • মুভমেন্টে ব্যথা বাড়ে
  • পিঠ শক্ত লাগে

৩. মেরুদণ্ডের ডিস্ক সরে যাওয়া (স্লিপড ডিস্ক)

মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝে থাকা ডিস্ক সরে গেলে ব্যথা কোমরের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়ে।
উপসর্গ:

  • কোমর থেকে পায়ে ব্যথা ছড়ায়
  • ঝিমঝিম ভাব
  • বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে

৪. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)

মূত্রনালিতে সংক্রমণ হলে কোমরের পাশে ব্যথা হয়।
উপসর্গ:

  • ঘন ঘন প্রস্রাব
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
  • হালকা জ্বর

৫. গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা

অতিরিক্ত গ্যাস পেটে চাপে পড়ে কোমরের পাশে ব্যথা দিতে পারে।
উপসর্গ:

  • পেট ফুলে থাকা
  • ঢেঁকুর
  • পেট মোচড়ানো

৬. মেয়েদের মাসিক বা ডিম্বাশয়ের সমস্যা

মাসিকের আগে বা ডিম্বাশয়ের সিস্ট থাকলে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে।
উপসর্গ:

  • তলপেটে টান
  • অনিয়মিত মাসিক
  • দুর্বলতা, মাথা ঘোরা

৭. অতিরিক্ত ওজন বা ভুল ভঙ্গিতে বসা

একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসা বা অতিরিক্ত ওজনের চাপে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে।
উপসর্গ:

  • ঘাড়, পিঠ, কোমরে চাপ
  • সোজা হয়ে বসতে কষ্ট হয়

৮. আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগ

বয়সজনিত কারণে হাড় ক্ষয় হলে কোমরের পাশে ব্যথা দেখা দেয়।
চিহ্ন: সকালে ব্যথা বেশি হয়, ব্যথা হাঁটলে কিছুটা কমে।

তীব্রতা অনুযায়ী কোমর ব্যথার কারণ

 যত বেশি ব্যথা, তত জটিল কারণ। গ্যাস, টান থেকে শুরু করে কিডনি স্টোন বা ডিস্ক সরে যাওয়া পর্যন্ত কিছু হতে পারে।

  • মৃদু ব্যথা: পেশি টান, ভুল ভঙ্গি, বেশি সময় বসে থাকা।
  • মাঝারি ব্যথা: গ্যাস্ট্রিক, নার্ভ চেপে যাওয়া, মাসিকজনিত।
  • তীব্র ব্যথা: কিডনি পাথর, ডিস্ক সরে যাওয়া, সংক্রমণ।

কীভাবে কোমরের দুই পাশে ব্যথা প্রতিরোধ করবেন?

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

 দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলালে ব্যথা অনেকটাই কমবে।

  • রোজ ব্যায়াম করুন। পিঠের মাংসপেশি শক্ত হয়।
  • চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। হাঁটু ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • একটানা বসে থাকবেন না। প্রতি ঘণ্টায় উঠে হাঁটুন।
  • পানি বেশি খান। কিডনি পরিষ্কার থাকে।
  • পেটে চাপ পড়ে এমন খাবার এড়ান। যেমন—ডাল, বাঁধাকপি, কোলা।
  • ভারী ব্যাগ কাঁধে রাখবেন না।
  • মোটা তোশকে ঘুমান না।
  • বাচ্চা কোলে তোলার সময় বসে তুলুন।
  • সোজা ভঙ্গিতে হাঁটুন।
  • ব্যথা বাড়লে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল 

তাকফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করুন

ব্যথা উপশমের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক তেল অত্যন্ত কার্যকর। তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল, যা সাধারণত “ব্যথানাশক তেল” বা “মালিশ তেল” নামে পরিচিত, তা ব্যবহার করলে পেশীগুলো শিথিল হয় এবং ব্যথা দ্রুত কমতে শুরু করে।

গ্যাস্ট্রিক থেকে কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

অনেকেই ভাবেন, গ্যাস্ট্রিক মানেই শুধু পেট ব্যথা বা ঢেঁকুর। কিন্তু জানেন কি, গ্যাস্ট্রিকের কারণে কোমরের দুই পাশেও ব্যথা হতে পারে?

হ্যাঁ, এটা সত্যি। আর এটা হয় অনেকগুলো শারীরিক প্রক্রিয়ার কারণে।

কিভাবে গ্যাস্ট্রিক কোমরের পাশে ব্যথা তৈরি করে?

গ্যাস্ট্রিক হলে পেটে গ্যাস জমে। সেই গ্যাস উপরের দিকে বুকে চাপ দেয়, আবার নিচের দিকে চাপ দেয় অন্ত্রে। চাপের এই বিস্তার যখন অতিরিক্ত হয়, তখন তা কোমরের পাশেও ব্যথার রূপ নেয়।

কারণগুলো কী হতে পারে?

১. অতিরিক্ত গ্যাস অন্ত্রে জমে থাকা

গ্যাস যখন বড় অন্ত্র বা ছোট অন্ত্রে আটকে যায়, তখন তা আশপাশের স্নায়ুতে চাপ দেয়। এতে কোমরের দুই পাশে চাপ অনুভূত হয়।

  • পেট ফাঁপা
  • ঢেঁকুর
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
  • কোমরের দুই পাশে টান ধরার মতো ব্যথা

২. পেটের মাংসপেশিতে টান

গ্যাস্ট্রিকের সময় পেটের নিচের দিকে চাপ পড়ে। এই চাপ কখনও কোমরের পাশের পেশিতেও প্রভাব ফেলে।

  • বসা থেকে উঠলে ব্যথা বাড়ে
  • সোজা হয়ে দাঁড়াতে কষ্ট হয়
  • কোমরের দুই পাশে ব্যথা ছড়ায়

৩. গ্যাস্ট্রিকের কারণে হজমজনিত চাপ

খাবার না হজম হলে পাকস্থলীর নিচের অংশে চাপ জমে। এতে পেছনের দিকে ব্যথা ছড়ায়, বিশেষ করে কোমরের পাশে।

  • খাবারের পর ব্যথা বাড়ে
  • বমি ভাব থাকে
  • পেট ফুলে যায়

৪. গ্যাস পিঠে ছড়িয়ে পড়া

গ্যাস শুধু পেটে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটা বায়ু চাপের মতো শরীরের পেছনেও যেতে পারে। তখন কোমরের পাশে ব্যথা অনুভূত হয়।

  • কোমরের পাশে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা
  • ব্যথা নড়াচড়া করলে কমে বা বাড়ে
  • হালকা ব্যায়াম করলে আরাম লাগে

কাদের বেশি হয়?

  • যাঁরা খালি পেটে থাকেন
  • বেশি তেল-মসলা খাওয়া হয়
  • বদহজম বা অ্যাসিডিটির রোগী
  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন
  • মেয়েরা মাসিকের আগে সময়ে বেশি ভোগেন

করণীয় কী?

✅ হালকা গরম পানি খান
✅ সহজপাচ্য খাবার খান (ভাত, সেদ্ধ সবজি)
✅ বেশি মসলা, তেল, চিনি বাদ দিন
✅ দিনে ৫-৬ বার অল্প অল্প করে খাবার খান
✅ হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন
✅ প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ (যেমন ওমিপ্রাজল) নিন
✅ বারবার হলে ডাক্তার দেখান

গ্যাস্ট্রিক থেকে কোমরের পাশে ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তবে বারবার হলে এটাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যদি সেই ব্যথা সঙ্গে পেট ফাঁপা, ঢেঁকুর, কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবের জ্বালা থাকে—তবে চিকিৎসা নিন।

বাচ্চাদের কোমরের পাশে ব্যথা হলে কী করব?

বাচ্চাদের কোমরের পাশে ব্যথা হলে কী করব

আপনার ছোট্ট শিশুর কোমরের পাশে হঠাৎ ব্যথা হচ্ছে? এটা যেকোনো মায়ের জন্যই চিন্তার কারণ। কিন্তু আতঙ্ক না হয়ে আগে বোঝার চেষ্টা করুন ব্যথার ধরন, কারণ, আর কীভাবে দ্রুত উপশম আনা যায়। নিচে বিস্তারিত বলছি:

ব্যথার সম্ভাব্য কারণগুলো কী?

১. মাংসপেশিতে টান বা আঘাত: শিশু খেলাধুলা করতে গিয়ে পড়ে গেলে কোমরের পাশে ব্যথা হতে পারে। ভারী কিছু তুললে বা হঠাৎ ঝুঁকে কিছু ধরলে মাংসপেশিতে টান লাগে।

২. মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI): কোমরের এক পাশে বা দুই পাশে ব্যথা হতে পারে। শিশুর প্রস্রাব জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে গন্ধ – এসব লক্ষণ থাকে।

৩. কিডনির সমস্যা (যেমন কিডনি স্টোন): ব্যথা কোমরের এক পাশে তীব্রভাবে শুরু হয়, নিচে পেট বা উরু পর্যন্ত ছড়াতে পারে। বমি, জ্বর বা প্রস্রাবে রক্ত থাকতে পারে।

৪. পেটের গ্যাস্ট্রিক বা কোষ্ঠকাঠিন্য: দীর্ঘ সময় ধরে পায়খানা না হলে কোমরের পাশেও ব্যথা হতে পারে।

৫. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা ফ্লু: শরীরে ভাইরাস থাকলে সারা গায়ে ব্যথার সাথে কোমরের পাশে ব্যথা হতে পারে।

ব্যথা বোঝার সহজ উপায়

লক্ষণসম্ভাব্য কারণ
খেলার পর ব্যথামাংসপেশির টান
প্রস্রাবে জ্বালা ও জ্বরইউরিন ইনফেকশন
তীব্র ব্যথা, বমিকিডনির পাথর
পেট ফাঁপা, গ্যাসগ্যাস্ট্রিক
কোমর ও পেছনে হালকা ব্যথাভাইরাল জ্বর

ঘরোয়া করণীয়

১. গরম পানির সেঁক দিন: কোমরের পাশে হালকা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করুন। দিনে ২–৩ বার ১৫ মিনিট করে দিন।
২. আরামদায়ক বিছানা দিন: শক্ত বা নিচু বিছানায় না শুয়ে কোমর সাপোর্ট দেয় এমন বিছানায় শোয়ান।
৩. পানি ও তরল খাবার দিন: শিশু যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে, বিশেষ করে ইউরিন ইনফেকশন থাকলে।
৪. হালকা ব্যায়াম করান (বয়স অনুযায়ী): স্ট্রেচিং বা হালকা হাঁটাচলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

কোমরের ব্যথা কি গর্ভাবস্থার শুরুতে সাধারণ?

 হ্যাঁ, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে কোমরের ব্যথা অনেক মায়ের জন্যই একটি সাধারণ উপসর্গ। সাধারণত এটি ঘটে হরমোনের পরিবর্তন, লিগামেন্ট ঢিলে হয়ে যাওয়া, এবং জরায়ুর আকার বড় হওয়ার কারণে। প্রোজেস্টেরন ও রিল্যাক্সিন হরমোন এই সময়ে শরীরের সন্ধি ও মাংসপেশিকে আলগা করে দেয়, ফলে কোমরে চাপ পড়ে।

তবে এই ব্যথা যদি—

  • খুব বেশি হয়,
  • ব্যথার সাথে রক্তপাত হয়,
  • জ্বর বা মাথা ঘোরা থাকে,
  • ব্যথা একপাশে কনসেন্ট্রেটেড হয় (বিশেষ করে ডান বা বাম দিকে),

তাহলে তা অস্বাভাবিক হতে পারে এবং অবিলম্বে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 ডা. শারমিন নাহার, গাইনী বিশেষজ্ঞ বলেন,
“প্রেগন্যান্সির প্রথম দিকে হালকা কোমর ব্যথা নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই, তবে যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ এটি কখনও কখনও একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা মিসক্যারেজের ইঙ্গিত হতে পারে।”

প্রয়োজনে করণীয়:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
  • হালকা গরম পানির সেঁক ব্যবহার করুন
  • বেশি সময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা এড়িয়ে চলুন
  • অতিরিক্ত ভারী কাজ এড়ান
  • ব্যথা তীব্র হলে বা অন্য উপসর্গ থাকলে ডাক্তার দেখান

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ

নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান:

  • জ্বর, কাঁপুনি
  • প্রস্রাবে রক্ত
  • বমি বা খাওয়া বন্ধ
  • ব্যথা বাড়তে থাকা
  • ২ দিনেও ব্যথা না কমা

প্রতিরোধের উপায়

  • বাচ্চাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন
  • নিয়মিত পানি পান করান
  • ভারী ব্যাগ বা বই না টানতে দিন
  • প্রস্রাব চেপে না রাখতে শেখান
  • গ্যাস্ট্রিকের জন্য ফাস্ট ফুড কম দিন

বাচ্চাদের কোমরের পাশে ব্যথা হলে সব সময়ই চিন্তার কিছু নেই। তবে ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্য উপসর্গ থাকে, দ্রুত চিকিৎসা নিন। বাড়িতে সঠিক যত্ন আর সচেতনতাই শিশুর সুস্থতার চাবিকাঠি।

উপসংহার (Conclusion):

কোমরের দুই পাশে ব্যথা মানেই একরকম সমস্যা নয়। কারণ অনেক, সমাধানও আছে। ঠিক তথ্য জানলে, সতর্ক হলে, বড় অসুবিধা এড়ানো যায়। ব্যথাকে পাত্তা না দিয়ে বসে থাকলে সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল।তাই, সচেতন হোন। সুস্থ থাকুন।

পড়া শেষ? এই লেখাটা উপকারে এলে, দয়া করে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আপনার একটা শেয়ার হয়তো কারও বড় উপকার করতে পারে!

FAQ

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা

কোমরের ব্যথা কি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণে হতে পারে?
কোমরের পাশে ব্যথা কি ফ্যাটি লিভারের কোনো উপসর্গ?
কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে কি পেছন থেকে ম্যাসাজ করা যাবে?
কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে কী ধরনের চেয়ারে বসা উচিত?
কোমরের পাশে ব্যথা কি মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থেকেও হয়?

Share this article
Shareable URL
Prev Post

কিভাবে রোধ করবেন পায়ের হাটুর নিচে মাংসপেশিতে ব্যথা? জানুন সেরা ১০ টি ঘরোয়া উপায়

Next Post

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ১০ টি ঘরোয়া উপায় কতটা কার্যকর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

কোমর ব্যাথা সারানোর সহজ উপায় | ঘরোয়া চিকিৎসা ও ব্যায়াম করে ব্যাথা মুক্ত হন

কীভাবে দ্রুত কোমরের ব্যথা কমানো যায়? বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম, গরম-ঠাণ্ডা সেঁক, আর ঘরোয়া চিকিৎসা—এই চারটি…
কোমর ব্যাথা সারানোর সহজ উপায়