ব্যাথা নিরাময়ে বিশস্ত সঙ্গি

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় | নিরাপদ ও প্রাকৃতিক সমাধান

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বাবা-মায়ের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে প্রায়শই। এই সাধারণ সমস্যাটি মূলত অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার কারণে হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার, নিয়মিত পানি পান এবং শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার পেটের স্বাস্থ্য উন্নত করে, যখন নিয়মিত টয়লেট রুটিন ও পেট ম্যাসাজ হজম প্রক্রিয়া সুচারু রাখে।

তাজা ফল ও শাকসবজির সাথে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করলে মল নরম হয় এবং নিয়মিত মলত্যাগ নিশ্চিত হয়। এসব প্রাকৃতিক উপায়েই বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সহজেই, চলুন জেনে নেই।

Table of Contents

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা যা ঘরোয়া উপায়ে সহজেই সমাধান করা যায়। পর্যাপ্ত পানি পান, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক টয়লেট রুটিন অনুসরণ করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ঘরোয়া উপায়সমূহ

১.পর্যাপ্ত পানি পান করান: শিশুকে দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাতে হবে, এতে মল নরম থাকে এবং সহজে পায়খানা হয়।

২.ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার দিন: ডালিয়া, ওটস, শাকসবজি এবং ফলমূল শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন, এগুলো মলকে নরম করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে।

৩.প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়ান: দই জাতীয় খাবার শিশুর পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৪.নিয়মিত টয়লেট রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন একই সময়ে শিশুকে টয়লেটে বসার অভ্যাস করান, বিশেষ করে খাবারের পরে।

৫.লেবু পানি খাওয়ান: লেবু পানি অন্ত্রে মলের গতিবিধি বাড়ায় এবং মল নরম করে।

৬.সকালে গরম পানি পান করান: প্রতিদিন সকালে শিশুকে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করাতে পারেন।

৭.কিশমিশ খাওয়ান: রাতে ৪-৫টি কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

৮.ব্যায়াম করান: শিশুকে নিয়মিত খেলাধুলা করতে দিন, এতে পাচনতন্ত্র সক্রিয় থাকে।

৯.জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন: ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

১০.মেথি বীজ ব্যবহার করুন: এক চামচ মেথি বীজ রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানিসহ খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

তথ্যসূত্রঃ 

  1. টাইমস অফ ইন্ডিয়া – Home remedies for constipation in children: https://timesofindia.indiatimes.com/life-style/health-fitness/home-remedies/home-remedies-for-constipation-in-children/photostory/104469551.cms

১ বছরের বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

১ বছরের বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা যা ঘরোয়া উপায়ে সমাধান করা সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, পেট ম্যাসাজ এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।

১ বছরের বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়সমূহ

  • পেট ম্যাসাজ করুন: শিশুকে শুইয়ে দিয়ে হালকা গরম অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল দিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে (ডান থেকে বাম) পেট ম্যাসাজ করুন। এটি অন্ত্রের গতিবিধি বাড়ায় এবং মল নরম করে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করান: শিশুকে দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাতে হবে, এতে মল নরম থাকে এবং সহজে পায়খানা হয়।
  • ফলের রস দিন: ১ বছরের শিশুকে আপেল, পিয়ার বা প্রুন জুস (১-২ আউন্স) দিনে একবার দিতে পারেন।
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার দিন: ওটমিল, ডালিয়া, শাকসবজি এবং ফলমূল শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন। রাইস সিরিয়ালের পরিবর্তে ওটস, গম বা বার্লি সিরিয়াল দিন।
  • পায়ের ব্যায়াম করান: শিশুর পা দুটি ধরে সাইকেল চালানোর মত নাড়াচাড়া করুন। এটি পেটের পেশী সক্রিয় করে এবং মলত্যাগে সাহায্য করে।

এছাড়াও

  • কুসুম গরম পানিতে গোসল করান: গরম পানিতে গোসল করালে শিশুর পেটের পেশী শিথিল হয় এবং মলত্যাগে সহায়তা করে।
  • কিসমিস ব্যবহার করুন: ৫-৬টি কিসমিস রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানিসহ খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • প্রোবায়োটিক খাবার দিন: দই জাতীয় খাবার শিশুর পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন: ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

তথ্যসূত্রঃ 

  1. UnityPoint Health – Home Remedies for Constipation in Kids: https://www.unitypoint.org/news-and-articles/home-remedies-for-constipation-in-kids

কি খেলে বাচ্চার পায়খানা নরম হয়?

বাচ্চার পায়খানা নরম করার জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো সবচেয়ে কার্যকর। নাশপাতি, আপেল, পেয়ারা, পেঁপে এবং মিষ্টি আলুর মতো প্রাকৃতিক খাবার গুলি মলকে নরম করে এবং পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

  • নাশপাতি: একটি মাঝারি আকারের নাশপাতিতে ৫.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে যা মলকে নরম করার কাজে সিদ্ধহস্ত। গবেষণায় দেখা গেছে নাশপাতিতে সরবিটল এবং ফ্রুক্টোজ থাকে যা প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে।
  • আপেল: আপেলে পেকটিন নামক উপাদান রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং মলকে নরম রাখে। প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • পেঁপে: পেঁপেতে পেপাইন এনজাইম থাকে যা পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। এর ফাইবার প্রাকৃতিক রেচক হিসাবে কাজ করে।
  • মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলুতে প্রচুর ফাইবার থাকে যা পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
  • প্রুন বা আলুবোখারা: প্রুনে প্রচুর ফাইবার থাকে এবং এটি প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Taste of Home – 7 Foods That Help Your Baby Poop: https://www.tasteofhome.com/collection/foods-that-help-baby-poop/

বাচ্চারা এক সপ্তাহ পায়খানা না করলে কি হয়?

বাচ্চারা এক সপ্তাহ পায়খানা না করলে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য পেটে ব্যথা, খাবারে অরুচি, মলদ্বারে ক্ষত এবং রক্তপাতের কারণ হতে পারে। এছাড়া বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

  • পেটে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি: গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘদিন পায়খানা না হলে পেটে মল জমে গিয়ে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে।
  • মলদ্বারে ক্ষত ও রক্তপাত: শক্ত মল মলদ্বারের চারপাশে ছোট কাটা (এনাল ফিশার) সৃষ্টি করে যার ফলে রক্তপাত হতে পারে।
  • খাবারে অরুচি ও বমি: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে শিশুর খাবারে অরুচি দেখা দেয় এবং বমির সমস্যা হতে পারে।
  • বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ওজন বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
  • ফিক্যাল ইমপ্যাকশন: অতিরিক্t মল জমে গিয়ে পায়খানার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে যা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
  • মানসিক সমস্যা: পায়খানার ভয় ও কষ্টের কারণে শিশুর মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্রঃ 

  1. মেইও ক্লিনিক – Constipation in children – Symptoms & causes: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/constipation-in-children/symptoms-causes/syc-20354242
  2. কলাম্বিয়া ডক্টরস – What Happens When Kids Don’t Poop?: https://www.columbiadoctors.org/news/what-happens-when-kids-dont-poop

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে বাচ্চাদের আচরণ কেমন হয়?

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। যন্ত্রণার ভয়ে তারা মলত্যাগ এড়িয়ে যায়, অস্থির হয়ে ওঠে এবং খেলাধুলা বা খাওয়ায় অনীহা দেখাতে পারে। 

  • মল আটকে রাখার চেষ্টা: যন্ত্রণার ভয়ে শিশুরা পাঁজোড় জোড়া চেটে ধরে, তাদের শরীর টানাদান করে বা লেগ ক্রস করে মলত্যাগ এড়াতে পারে 
  • অনিদ্রা ও অস্থিরতা: পেটে ব্যথার কারণে রাতের ঘুম ভেঙে যায়, দিনজুও কেবল কোলকষে থাকে বা বারবার positions পরিবর্তন করে শান্ত থাকতে চায় 
  • খাবারে অনীহা: পেট ফাঁপা ও টলপলে অবস্থার কারণে শিশুরা খাবার খেতে চায় না বা অল্প কয়েক কাম নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয় 
  • চিৎকার ও কান্না: মলত্যাগ করার সময় যন্ত্রণা অনুভব করলে তারা মৃদু চিৎকার করে বা কান্নাকাটি করে, বিশেষ করে টয়লেটে বসানোর সময় 
  • মলদ্বারে ফাটল বা রক্তপাত: শক্ত মল পাস করার ফলে ফিশার হতে পারে, ফিসার এড়াতে শিশুরা আরও বিরত নিই; এতে রক্তের ছোঁয়া দেখা দিতে পারে 
  • পেশী টান ও চাপ: পেটে পেশী সংকোচনের ফলে শিশুর পেট টানতে পারে, তারা বুকে হাত রেখে বা পেট ধরা দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে পারে 
  • বায়ুচলাচলের অভাব: তারা প্রায়ই পেটের ভিতরে গ্যাস জমার কথা বলে, পাচনতন্ত্রের অস্বস্তি থেকে তারা ডাকার চেষ্টা করে না 
  • সোয়েট ধরা: অতিরিক্ত অস্বস্তিতে শিশুর বুকে ও কপালে ঘাম জমতে পারে, যা অস্থির অবস্থার লক্ষণ 
  • ইচ্ছাকম্পিত মলত্যাগ: অভিজ্ঞ অভিজ্ঞতার কারণে তারা মলত্যাগের প্রস্রাবে মনোযোগ দিয়েও হঠাৎ কোনো সময়ে মলত্যাগ করে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে 

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Mayo Clinic Health System – Q&A: Constipation in children: https://www.mayoclinichealthsystem.org/hometown-health/speaking-of-health/qa-constipation-in-children

কোষ্ঠকাঠিন্য কি বাচ্চাদের বিরক্তির কারণ হতে পারে?

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুদের শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, ফলশ্রুতিতে শিশুরা বিরক্তিবোধ করতে পারে।

  • যন্ত্রণার কারণে ক্রমাগত বিরক্তি: পেডিয়াট্রিক গবেষণায় দেখা গেছে শক্ত মলত্যাগে পেট ব্যথা ও অস্বস্তি শিশুদের নিয়মিত বিরক্তি ও কান্নাকাটা বাড়ায়।
  • মানসিক চাপ ও আচরণগত সমস্যা: দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুর মধ্যে অবসন্নতা, অস্থিরতা এবং আচরণগত পরিবর্তন সৃষ্টি করে।
  • নিদ্রাহীনতা: পেটের অস্বস্তির কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় শিশু সকালে খিটখিটে ও বিরক্ত থাকে।
  • খাবারে অনীহা: কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে পেটে চাপ অনুভব হলে শিশুরা খাবার খেতে অনীহা দেখায় এবং বিরক্তি প্রকাশ করে।
  • মল আটকে রাখার অভ্যাস: যন্ত্রণার ভয়ে মল আটকে রাখলে শিশুরা বিরক্তি নিয়ে লেগে থাকে, যা সারাদিনের মেজাজ প্রভাবিত করে।

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Johns Hopkins Medicine – Constipation in Children: https://www.hopkinsmedicine.org/health/conditions-and-diseases/constipation-in-children

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্যে কখন ডাক্তার দেখাবেন?

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্যে তখনই ডাক্তার দেখাবেন যখন লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয় বা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। 

  • দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য: দুই সপ্তাহের চেয়ে বেশি সময় ধরে মলত্যাগ না করলে পেডিয়াট্রিসিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ.
  • রক্তমিশ্রিত মল: মলের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে জরুরি পরীক্ষার জন্য ডাক্তার দেখান
  • জ্বর ও অরুচি: কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে জ্বর বা খাবারে অনীহা থাকলে স্বাস্থ্য সংকেতের অংশ হিসেবে চিকিৎসা প্রয়োজন
  • বায়ুচলাচল ও পেট ফুলে থাকা: পেটে অতিরিক্ত চাপ বা ফোলাভাব ঘটলে বিষয়টি সন্দেহজনক, দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান
  • ওজন কমে যাওয়া: অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস শিশুর বৃদ্ধি-উন্নয়ন ব্যাহত করতে পারে, এতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার
  • প্রকোপ বা ফিক্যাল ইমপ্যাকশন: মল জমে রাস্তা বন্ধ হলে এবং সচরাচর এনিমিয়া বা এনাল ফিশার দেখা দিলে প্রাথমিক চিকিৎসা না হলে অবস্থা খারাপ হতে পারে
  • বারবার ঘনঘন অস্বস্তি: পেটে ধারাবাহিক ব্যথা বা অস্থিরতা থাকলে এবং সাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসায় উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান
  • ভয় বা তিরস্কারের সমস্যা: শিশুরা যদি টয়লেটের ভয়ে মল আটকে রাখার চেষ্টা করে, তা দীর্ঘমেয়াদে ফাংশনাল সমস্যা সৃষ্টি করবে, তাই বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া উচিৎ

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Mayo Clinic – Constipation in children – Symptoms & causes: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/constipation-in-children/symptoms-causes/syc-20354242
  2. MedlinePlus – Constipation in infants and children: https://medlineplus.gov/ency/article/003125.htm

বাচ্চাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সবচেয়ে সাধারণ কারণ কি?

বাচ্চাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল মল আটকে রাখার অভ্যাস (withholding behavior), যা শিশুরা যন্ত্রণার কারণে মলত্যাগ এড়িয়ে চলে.

বাচ্চাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সবচেয়ে সাধারণ কারণ

  • মল ধরে রাখা: শিশুরা যখন মলত্যাগের কষ্ট এড়াতে চায়, তখন তারা মল চেপে রাখে, যা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান কারণ।
  • শিক্ষা ও টয়লেট ট্রেনিং ইস্যু: খুব শীঘ্রই বা জোর করে টয়লেট প্রশিক্ষণ শুরু করলে শিশুরা বিরোধিতামূলক আচরণ দেখায় এবং মল হোল্ড করতে পারে.
  • ডায়েটে পরিবর্তন: যখন শিশুর খাদ্য তরল থেকে সলিডে যায় অথবা আঁশ ও তরল কম পায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে
  • পরিবর্তিত রুটিন বা মানসিক চাপ: স্কুলে যাওয়া, ভ্রমণ বা মানসিক উদ্বেগের কারণে অন্ত্রের গতিবিধিতে বাধা সৃষ্টি হয়
  • ডেইরি অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার: খুব বেশি দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Mayo Clinic – Constipation in children – Symptoms & causes: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/constipation-in-children/symptoms-causes/syc-20354242

বাচ্চাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা

বাচ্চাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, আচরণগত কৌশল এবং প্রয়োজনে ওষুধ বা এমেয়েন্স ব্যবহার করা হয়, যা ধাপে ধাপে লক্ষণ শিথিল করে।

  • ডায়েট ও তরল বৃদ্ধি: ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার (ফল, শাক, साबুজ সবজি, সম্পূর্ণ শস্য) এবং পর্যাপ্ত পানি শিশুর মল নরম করতে সহায়তা করে।
  • আচরণগত কৌশল: প্রতিদিন একই সময়ে টয়লেটে বসার রুটিন তৈরি ও পুরস্কার পদ্ধতি প্রয়োগ করলে শিশুর মানসিক বাধা কমে এবং নিয়মিত মলত্যাগে উৎসাহিত হয়।
  • পেট ম্যাসাজ ও ব্যায়াম: হালকা গরম তেল দিয়ে পেট ম্যাসাজ এবং পায়ে সাইকেল চালানোর অনুকরণ শিশুর অন্ত্রের গতিবেগ বাড়ায়।
  • স্টুল সফটনার বা ফাইবার সাপ্লিমেন্ট: দোকুসেট সোডিয়াম জাতীয় সফটনার বা সায়্লিয়াম জাতীয় বাল্ক ল্যাক্সেটিভ প্রয়োগ লক্ষণ হ্রাসে কার্যকর।
  • সফল এমেয়েন্স বা সাপজিটরি: প্যাশাল ইমপ্যাকশন থাকলে গ্লিসারিন সাপজিটরি বা অতিরিক্ত কনটাকট সিডিফিক চিকিৎসা শিশুর স্বস্তি আনতে সাহায্য করে।

 তথ্যসূত্রঃ 

  1. NIDDK – Treatment for Constipation in Children: https://www.niddk.nih.gov/health-information/digestive-diseases/constipation-children/treatment


ব্যক্তিগত মতামতঃ বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এই সমস্যা শিশুদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, এই ধরনের সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া প্রতিকারগুলো প্রায়শই প্রথম এবং সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। যেমন, পর্যাপ্ত পানি পান করানো , ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডালিয়া, ওটস, শাকসবজি ও ফলমূল  শিশুর খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আমি মনে করি, দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার  এবং সকালে হালকা গরম পানি  বা লেবুপানি  পান করানোও পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

১ বছরের বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে পেট ম্যাসাজ  এবং পায়ের ব্যায়াম  খুবই কার্যকর। এর পাশাপাশি, নিয়মিত টয়লেট রুটিন তৈরি করা  এবং জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা  দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য অপরিহার্য। তবে, যদি ঘরোয়া উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য না কমে বা রক্তপাত, জ্বর, কিংবা তীব্র পেটে ব্যথার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা যায় , তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত । প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে শিশুরা দ্রুত সুস্থ জীবন ফিরে পায়।

FAQ

 বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করনীয়
৩ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করনীয়
৬ মাসের বাচ্চার পায়খানা না হলে করনীয়
৫ মাসের বাচ্চার পায়খানা না হলে করনীয়
৩ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করনীয়

Share this article
Shareable URL
Prev Post

কোমরের হাড় ক্ষয় রোগের চিকিৎসা |  কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

Next Post

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ ও চিরতরে ব্যথামুক্ত থাকার সহজ কৌশল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কি?  ১০ টি উপকারিতা ও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কি? এই সময়ে লেবুর সতেজ স্বাদ বমি ভাব কমিয়ে স্বস্তি এনে দেয় এবং ভিটামিন সি রোগ…
গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কি