ব্যাথা নিরাময়ে বিশস্ত সঙ্গি

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ ও চিরতরে ব্যথামুক্ত থাকার সহজ কৌশল

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ নিয়ে আর নয় অবহেলা। এই ব্যথা কি সাধারণ পেশীর টান, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো জটিলতা? এই আর্টিকেলে আমরা পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ সহ এর পেছনের সকল রহস্য উন্মোচন করেছি এবং দিয়েছি সহজবোধ্য সমাধান।

ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে জানুন কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা, সহজ ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় ঔষধের নাম। এছাড়া কোন পরিস্থিতিতে আর দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন, সে সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা নিন এবং সুস্থ থাকুন।

Table of Contents

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

উপরের পিঠে ব্যথা সাধারণত ভুল বসার ভঙ্গি, পেশীর টান, দীর্ঘসময় কম্পিউটারে কাজ করা এবং ভারী বস্তু তোলার কারণে হয়। এই ব্যথা ঘাড়ের নিচ থেকে পাঁজরের নিচ পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় অনুভূত হতে পারে। 

উপরের পিঠে ব্যথার প্রধান কারণসমূহ

  • ভুল দেহভঙ্গি – দীর্ঘসময় কুঁজো হয়ে বসা বা দাঁড়ানো
  • পেশীর টান বা স্ট্রেইন – হঠাৎ নড়াচড়া বা ভারী বস্তু তোলা
  • দীর্ঘসময় একই অবস্থানে থাকা – কম্পিউটারে কাজ করা বা ডেস্ক ওয়ার্ক
  • পেশীর অতিরিক্ত ব্যবহার – খেলাধুলা বা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ
  • আঘাত বা দুর্ঘটনা – পড়ে যাওয়া বা গাড়ি দুর্ঘটনা
  • বয়স জনিত কারণ – হাড়ের ক্ষয় বা আর্থ্রাইটিস
  • ডিস্কের সমস্যা – হার্নিয়েটেড ডিস্ক বা ডিস্ক ডিজেনারেশন
  • মানসিক চাপ – দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস পেশীর টান বাড়ায়
  • ভারী ব্যাগ বহন – কাঁধে বা পিঠে অতিরিক্ত ওজন
  • অনুপযুক্ত বিছানা – খুব শক্ত বা নরম তোশক ব্যবহার

উপরের পিঠে ব্যথা দূর করার  ঘরোয়া  সমাধান

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

উপরের পিঠে ব্যথা দূর করার জন্য গরম-ঠান্ডা সেঁক, হালকা ব্যায়াম, সঠিক বসার ভঙ্গি এবং প্রাকৃতিক উপাদান যেমন হলুদ ও আদা ব্যবহার করা যায়. এই ঘরোয়া উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে দ্রুত ব্যথা উপশম পাওয়া যায়। 

ঘরোয়া সমাধান

  • গরম ও ঠান্ডা সেঁক – প্রথম ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা সেঁক, পরে গরম সেঁক ২০ মিনিট করে দিনে ৩-৪ বার প্রয়োগ করুন
  • হালকা গরম পানিতে গোসল – পেশির টান কমাতে এবং রক্ত প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে
  • সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন – চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন, কুঁজো হয়ে বসবেন না
  • হলুদ দুধ – এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ হলুদ মিশিয়ে রাতে খান
  • আদার রস – প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে
  • পায়ের মালিশ – মেরুদণ্ডের সাথে পায়ের যোগসূত্র থাকায় এটি কার্যকর
  • পর্যাপ্ত ঘুম – দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন

তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল 

ব্যথা উপশমের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক তেল অত্যন্ত কার্যকর। তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল, যা সাধারণত “ব্যথানাশক তেল” বা “মালিশ তেল” নামে পরিচিত, তা ব্যবহার করলে পেশীগুলো শিথিল হয় এবং ব্যথা দ্রুত কমতে শুরু করে।

পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ

পিঠের মাঝখানে ব্যথা সাধারণত ভুল বসার ভঙ্গি, পেশীর টান, দীর্ঘসময় একই অবস্থানে থাকা এবং হার্নিয়েটেড ডিস্কের কারণে হয়. এই অংশটি থোরাসিক স্পাইন নামে পরিচিত এবং এখানে ব্যথা হওয়া তুলনামূলক কম সাধারণ। 

পিঠের মাঝখানে ব্যথার প্রধান কারণসমূহ

  • ভুল দেহভঙ্গি – দীর্ঘসময় কুঁজো হয়ে বসা বা কাজ করা
  • পেশীর টান বা আঘাত – ভারী জিনিস তোলা বা হঠাৎ নড়াচড়ার কারণে
  • হার্নিয়েটেড ডিস্ক – মেরুদণ্ডের ডিস্ক স্থানচ্যুত হয়ে স্নায়ুতে চাপ দেওয়া
  • আর্থ্রাইটিস – মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয় ও প্রদাহ
  • দীর্ঘসময় বসে থাকা – ডেস্ক ওয়ার্ক বা কম্পিউটারে কাজ করা
  • মানসিক চাপ – স্ট্রেস পেশীর টান বাড়িয়ে দেয়
  • অতিরিক্ত ওজন – মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ

পিঠের মাঝখানে ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

পিঠের মাঝখানে ব্যথা দূর করার জন্য গরম-ঠান্ডা সেঁক, হলুদ দুধ, সরিষার তেল মালিশ এবং হালকা যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর. এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে দ্রুত ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

ঘরোয়া উপায়সমুহ

  • গরম ও ঠান্ডা সেঁক – প্রথম ১৫-২০ মিনিট ঠান্ডা সেঁক, পরে গরম সেঁক প্রয়োগ করুন
  • হলুদ দুধ – এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ হলুদ মিশিয়ে রাতে পান করুন
  • সরিষার তেল মালিশ – গরম সরিষার তেল দিয়ে আক্রান্ত স্থানে আলতো মালিশ করুন
  • ক্যাট-কাউ যোগাসন – হাত-হাঁটুর ভঙ্গিতে মেরুদণ্ড উপরে-নিচে নমনীয় করুন
  • চাইল্ড পোজ – হাঁটু মুড়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পিঠের টান কমান
  • আদা চা – প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক হিসেবে আদা চা নিয়মিত পান করুন

পিঠের বাম পাশে ব্যথার কারণ

পিঠের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে পেশীর টান, ডিস্ক সমস্যা বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যা যেমন কিডনির রোগের কারণে।

  • পেশীর স্ট্রেইন – ভারী জিনিস তোলা বা হঠাৎ নড়াচড়ার ফলে পেশীতে টান পড়ে ব্যথা হতে পারে।
  • হার্নিয়েটেড ডিস্ক – ডিস্কের ভেতরের জেলিয়া বেরিয়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে পাশে ব্যথা ছড়ায়।
  • কিডনির সমস্যা – কিডনি পাথর বা সংক্রমণে তীব্র শকিং বা স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • সায়াটিকা – নিতম্ব থেকে শুরু করে পায়ের দিকে সংকুচিত স্নায়ু ব্যথা দেয় যা পিঠের একপাশে অনুভূত হয়।
  • স্কোলিওসিস – মেরুদণ্ডের অস্বাভাবিক বক্রতায় একদিকে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যায়।
  • আঘাত বা ট্রমা – দুর্ঘটনা বা পতনের ফলে লিগামেন্ট বা হাড় আঘাতপ্রাপ্ত হলে একপাশে ব্যথা হয়।
  • জরায়ু সঙ্কট – মহিলাদের ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের কারণে বিকিরণ ব্যথা হতে পারে।
  • অস্থিশোষ বা আর্থ্রাইটিস – মেরুদণ্ডের হাড় ও জলীয় ঝিল্লির ক্ষয়ে ব্যথা ছড়াতে পারে।

পিঠের বাম পাশে ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পিঠের বাম পাশে ব্যথা কমাতে গরম–ঠান্ডা সেঁক, সরষে তেল মালিশ এবং সহজ স্ট্রেচিং অত্যন্ত কার্যকরী উপায়।

ঘরোয়া উপায়সমুহ

  • গরম ও ঠান্ডা সেঁকঃ প্রথম ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা প্যাক ১৫–২০ মিনিট, এরপর গরম পানি ব্যাগ ২০ মিনিট করে দিন।
  • সরষে তেল মালিশঃ গরম সরষে তেল দিয়ে পিঠের বাম পাশে হালকা আনুভূমিক মালিশ করুন, রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং পেশি শিথিল হয়।
  • ক্যাট-কাউ স্ট্রেচঃ হাত ও হাঁটু মেলানো পজিশনে শ্বাস নিতে মেরুদণ্ড ঢিলে, ছাড়তে ঢেলে লোয়ার ব্যাক বাঁকুন।
  • চাইল্ড পোজঃ হাঁটু ভাঁজ করে পেছনে বসুন, হাত সামনের দিকে বারিয়ে পিঠের টান কমান।
  • হলুদ দুধঃ এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ হলুদ মেশিয়ে রাতে পান করুন; প্রদাহ কমায়।
  • আদার চাঃ প্রতিদিন এক কাপ আদার চা পান করলে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসাবে কাজ করে।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সঠিক ভঙ্গিঃ সোজা হয়ে বসুন, প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।

পিঠের ডান পাশে ব্যথার কারণ

পিঠের ডান পাশে ব্যথা সাধারণত পেশীর টান, ডিস্ক সমস্যা অথবা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যার কারণে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা অবহেলা করা উচিত নয়।

  • পেশীর স্ট্রেইনঃ ভারী জিনিস উত্তোলন বা হঠাৎ নড়াচড়ায় পেশীতে টান পড়ে ব্যথা অনুভূত হয় 
  • হার্নিয়েটেড ডিস্কঃ ডিস্কের ভেতরের জেলিয়া স্নায়ুতে চাপ দিয়ে একটি পাশে তীব্র ব্যথা ছড়াতে পারে 
  • কিডনির সমস্যাঃ কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণে ডান পার্শ্বে ধারালো বা স্থায়ী ব্যথা হতে পারে
  • প্যানক্রিয়াটাইটিসঃ পানক্রিয়াসের প্রদাহ পিঠের ডান পাশে তীব্র আর ছড়ানো ব্যথার কারণ হতে পারে
  • গলব্লাডারের রোগঃ পাথর বা প্রদাহের ফলে উপরের ডান পাশ থেকে কাঁধে ব্যথা ছড়াতে পারে
  • স্পাইনাল আর্থ্রাইটিসঃ মেরুদণ্ডের সংযুক্তিক স্থানে প্রদাহ হয়, ব্যথা উত্তরে একদিকে হতে পারে
  • ট্রমা বা আঘাতঃ দুর্ঘটনা, পড়ে গিয়ে বা মলিশে আঘাতপ্রাপ্ত হলে ডান পাশে ফোকাসড ব্যথা হয়
  • মানসিক চাপঃ দীর্ঘকালীন স্ট্রেস পেশীতে খিঁচুনি ও ব্যথার অনুভূতি বাড়ায়

পিঠের ডান পাশে ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পিঠের ডান পাশে ব্যথা দূর করতে গরম–ঠান্ডা সেঁক, সরিষার তেল মালিশ, নরম স্ট্রেচিং এবং প্রাকৃতিক উপাদান যেমন হলুদ ও আদা ব্যবহার করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

  • গরম ও ঠান্ডা সেঁকঃ প্রথম ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা প্যাক ১৫–২০ মিনিট, এরপর ২০ মিনিট গরম ব্যাগ দিন; এটি প্রদাহ কমায় ও রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
  • সরিষার তেল মালিশঃ হালকা গরম সরিষার তেল দিয়ে পিঠের ডান পাশে আলতো মালিশ করলে পেশি শিথিল হয় ও ব্যথা কমে।
  • হলুদ দুধঃ এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে পান করুন; এতে প্রদাহগত ব্যথা উপশম পায়।
  • আদার চাঃ প্রতিদিন এক কাপ আদার চা পান করলে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসাবে কাজ করে ও পেশী খিঁচুনি কমায়।
  • নরম স্ট্রেচিংঃ ক্যাট–কাউ এবং চাইল্ড পোজ যোগাসনে মেরুদণ্ড নমনীয় রাখলে পেশির টান মুক্ত হয়।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সঠিক ভঙ্গিঃ সোজা অবস্থায় বসুন, ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন এবং প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।

পিঠের দুই পাশে ব্যথার কারণ

পিঠের দুই পাশে ব্যথা সাধারণত পেশীর টান, ডিস্ক সমস্যা, অস্বাস্থ্যকর ভঙ্গি, অতিরিক্ত ওজন, কিডনি বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যার কারণে হতে পারে।

  • পেশীর টান বা স্ট্রেইনঃ ভারী জিনিস তোলা, হঠাৎ নড়াচড়া বা দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে দুই পাশে পেশীতে টান পড়ে ব্যথা হতে পারে।
  • ডিস্ক সমস্যাঃ মেরুদণ্ডের ডিস্কে সমস্যা (যেমন হার্নিয়েটেড ডিস্ক) হলে দুই পাশে ব্যথা ছড়াতে পারে।
  • অস্বাস্থ্যকর ভঙ্গিঃ কুঁজো হয়ে বসা, ভুলভাবে দাঁড়ানো বা ঘুমানোর কারণে দুই পাশে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতাঃ শরীরের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে ব্যথা হয়।
  • আর্থ্রাইটিস ও হাড়ের ক্ষয়ঃ বয়সজনিত আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওপরোসিসে দুই পাশে ব্যথা হতে পারে।
  • কিডনি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যাঃ কিডনিতে পাথর, সংক্রমণ বা গলব্লাডার সমস্যা থাকলে দুই পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • মানসিক চাপ ও স্ট্রেসঃ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ পেশী শক্ত করে দুই পাশে ব্যথা বাড়াতে পারে।
  • আঘাত বা দুর্ঘটনাঃ পড়ে যাওয়া, খেলাধুলায় আঘাত বা দুর্ঘটনায় দুই পাশে ব্যথা হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যাথা হয় কি? 

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা যেমন গ্যাস্ট্রাইটিস বা এসিড রিফ্লাক্সের কারণে পেটের প্রদাহ, গ্যাস জমা ও নিউরাল রেফার্ড পেইনের মাধ্যমে পিঠে ব্যথা হতে পারে। 

গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যথার কারণ

  • নিউরাল রেফার্ড পেইনঃ পেটের স্নায়ুগুলি মেরুদণ্ডের কাছাকাছি অবস্থায় থাকায় অ্যাসিডের কারণে স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে পিঠে ব্যথা দেয় 
  • গ্যাস ও ফুলে থাকাঃ পেট ভর্তি গ্যাস পেছনের পেশি ও স্নায়ুতে চাপ বাড়িয়ে নীচের পিঠে খিঁচুনি বা ভারি অনুভূতি সৃষ্টি করে 
  • এসিড রিফ্লাক্সঃ অ্যাসিড উপরে উঠে এসে খাদ্যনালীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করলে মাঝে মাঝে উপরের পিঠে জ্বলন্ত অনুভূতি ছড়ায় 
  • পিপটিক আলসারঃ পেটের বা ডুয়োডেনামের আলসার ব্যথা মাঝে মাঝে পিঠের মাঝ বা উপরের অংশে রিফার হতে পারে 
  • ব্রুড পেশি টানঃ হঠাৎ দুর্বলিত বা সঙ্কুচিত পেটের পেশি পিঠের সঙ্গেও যুক্ত থাকায় আস্তে আস্তে পেছনে টান অনুভূত হয় 

তথ্যসূত্রঃ Physiotattva – Can Gastritis Cause Back Pain In Both Sides? (https://www.physiotattva.com/blog/can-gastritis-cause-back-pain-in-both-sides)

পিঠের ডান পাশে ব্যথার ঔষধ

পিঠের ডান পাশে ব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল, ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (NSAIDs) ও মাসল রিল্যাক্সান্ট প্রয়োগ করা হয়, যা দ্রুত আরাম দেয়।

পিঠের ডান পাশে ব্যথার ঔষধ

  • প্যারাসিটামল (Acetaminophen -ঃ সাধারনত প্রথম পছন্দ, লিভারে কম প্রভাব ফেলে এবং হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা উপশম করে
  • আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) -ঃ  NSAID হিসেবে প্রদাহ ও ব্যথা কমায়, ৪০০–৮০০ মিগ্রা দিনে ৩ বার গ্রহণ করতে হয়
  • নাপ্রোক্সেন (Naproxen) -ঃ দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে, ২৫০–৫০০ মিগ্রা প্রতিদিন দুবার নিতে হয়
  • ডাইক্লোফেন্যাক জেল বা প্যাচ -ঃ ক্ষুদ্র আয়তনে বাহ্যিক ব্যবহার করলে পাশে সরাসরি প্রয়োগে আরাম দেয়
  • মাসল রিল্যাক্সান্ট-ঃ যেমন সাইক্লোবেঞ্জাপ্রিন (Cyclobenzaprine) পেশি চাপ কমাতে সহায়ক, তবে ঘুম ও ড্রাউসিনেস বর্ধিত করতে পারে
  • ডুলোক্সেটিন (Duloxetine) -ঃ দীর্ঘমেয়াদী বা নিউরোপ্যাথিক ব্যথায় ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট গ্রুপের এই ঔষধ কার্যকর

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Drugs.com – Back Pain Medicines: https://www.drugs.com/condition/backache.html

উপরের পিঠে ব্যথার কোন পর্যায়ে ডাক্তার দেখাবেন

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

যখন সাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা তীব্র সংকেত যেমন অস্বাভাবিক অনুভূতি, ছুটন্ত জ্বর, ও পায়ে দুর্বলতা দেখা দেয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • ব্যথা এক সপ্তাহ অতিবাহিত, গৃহচিকিৎসায় (বিশ্রাম, ওষুধ, সেঁক) কোনো উন্নতি না হলে
  • রাতে বা বিশ্রামে ব্যথা তীব্র, ঘুম ভঙ্গ করলে
  • ব্যথা বুকে বা পায়ে বিকিরণ, শিরচাপা, ঝিমঝিম বা অনুভূতি কমে গেলে
  • প্রস্রাব বা মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা (বেড বেল্টার সিন্ড্রোম) দেখা দিলে
  • শরীরে অজানা ওজন হ্রাস, জ্বর বা রাতের ঘামসহ ব্যথা দিলে
  • সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা আঘাতের ফলে ব্যথা শুরু হলে
  • ক্যান্সার, অস্টিওপরোসিস বা ইমিউনো কম্প্রোমাইজড অবস্থার ইতিহাস থাকলে

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Mayo Clinic – Back pain: When to see a doctor https://www.mayoclinic.org/symptoms/back-pain/basics/when-to-see-doctor/sym-20050878

ব্যক্তিগত মতামতঃ উপরের পিঠে ব্যথার কারণ

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা এবং দৈনন্দিন অভ্যাস। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে কুঁজো হয়ে বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে দাঁড়ানো বা হঠাৎ করে ভারী কিছু তোলার মতো সাধারণ বিষয়গুলোই পেশীতে টান পড়ার জন্য মূলত দায়ী । অনেক সময় আমরা মানসিক চাপ থেকেও যে পিঠের পেশী শক্ত হয়ে ব্যথা হতে পারে, তা উপলব্ধি করি না । তাই আমার মতে, বড় কোনো আঘাত বা অসুস্থতা নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুলগুলোই এই ব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

FAQ: 

উপরের পিঠে ব্যথার কারণ সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১। পিঠে ব্যথা হলে কোন ধরনের ডাক্তার দেখা উচিত?

পিঠে ব্যথা অনুভব করলে প্রথমেই আপনার প্রধান পরিচর্যা ডাক্তার (Primary Care Physician) দেখুন। একজন প্রধান পরিচর্যা ডাক্তার আপনার পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে ব্যথার প্রথম মূল্যায়ন করবেন এবং প্রাথমিক ওষুধ বা পরীক্ষা নির্দেশ করতে পারবেন। যদি ব্যথা ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে কমে না বা তীব্র হয়, তাহলে কনসাল্ট করুন অরথোপেডিক সার্জন বা ফিজিশিয়াট্রিস্ট (পদের ডাক্তার)– যারা মেরুদণ্ড ও পেশী–যত্মক সমস্যা নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ।

২। পিঠে ব্যথার জন্য ডাক্তার নাকি ফিজিও?

দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ব্যথার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ ডাক্তার, কারণ তারা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (এক্স-রে, এমআরআই) ও ওষুধ নির্ধারণ করবেন। ফিজিওথেরাপিস্ট (শারীরিক থেরাপিস্ট) তবুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেনঃ 

  • ডাক্তার নির্দেশিত ওষুধ ও চিকিত্সার পর ফলো-আপ হিসেবে ফিজিওথেরাপি নিন
  • ব্যথা কমাতে ব্যায়াম, স্ট্রেচ ও মাংসপেশী শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেন

৩। পিঠে ব্যথা অভ্যন্তরীণ নাকি পেশিগত তা বোঝার উপায়?

পেশিগত (সোমাটিক) ব্যথা সাধারণত স্পষ্ট আঘাত, ভারী উত্তোলন বা অতিরিক্ত ব্যায়ামের পর হয় এবং স্পর্শ করলে পেশীতে কষ্ট বোঝা যায়। অভ্যন্তরীণ (ভিসেরাল) ব্যথা অস্পষ্ট, গভীর, বা “রেফার্ড” আকারে অনুভূত হতে পারে; যেমন গ্যাস্ট্রিক বা কিডনি সমস্যায় পিঠে ব্যথা ছড়ায়।

  • ব্যথার ধরন: পেশীতে শক বা টান vs কুঁচকানো বা টানটান অনুভূতি
  • লোকলাইজেশন: স্পষ্ট পেশীতে ব্যথা vs বিস্তৃত, ধোঁয়া-ঝাপসা অনুভূতি
  • সহ-লক্ষণ: জ্বর, ডায়েরিয়া বা প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে ভিসেরাল ভাব

৪। পিঠে ব্যথা কি নিউরোপ্যাথির লক্ষণ?

নিউরোপ্যাথিক ব্যথা স্নায়ুর ক্ষতির ফলে হয়ে থাকে। যদি ব্যথার সঙ্গে থাকে ঝিমঝিম, পিনস ও সুঁইয়ের অনুভূতি বা চামড়ায় তীব্র দহন, তাহলে নিউরোপ্যাথি ইঙ্গিত দিতে পারে।

  • রাত জেগে রাখে, পুরাতন ওষুধে কম আরাম পাওয়া
  • ব্যথা একপাশে বিকিরণ (যেমন সায়াটিকা)
  • চলতে বা ভার ধারণ করতে অসুবিধা, পেশীতে দুর্বলতা

৫। পিঠের স্নায়ু ক্ষতির লক্ষণ?

  • পিঠের স্নায়ু ক্ষতির ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়:
  • তীক্ষ্ণ বা বার্নিং ব্যথা, যা পিঠ থেকে পায়ে বা বাহুতে ছড়াতে পারে
  • সংবেদনশীলতা হ্রাস বা শূন্যতা, বিশেষ করে বিকিরিত অঞ্চলে
  • পেশী দুর্বলতা, হাঁটা বা বসা ভারে সমস্যা
  • পেশীতে অচলতা বা অকার্যকর স্পঞ্জিল প্রতিক্রিয়া

Share this article
Shareable URL
Prev Post

বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় | নিরাপদ ও প্রাকৃতিক সমাধান

Next Post

 পেটের বাম পাশে ব্যথা কেন হয়? জানুন ১০টি ঘরোয়া সমাধান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next