ব্যাথা নিরাময়ে বিশস্ত সঙ্গি

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয় | ১০টি কার্যকরী টিপস

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয়

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয় কী, আপনি কি এই ভেবে চিন্তিত? আপনার পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা কেন হয়, এই প্রশ্ন কি আপনাকে ভোগাচ্ছে? বিশ্রাম, বরফ বা গরম সেঁক থেকে শুরু করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন পর্যন্ত, পিঠের রগে টান লাগলে কী কী করা উচিত, তা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি । যদি আপনার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা না কমে,

তবে ফিজিওথেরাপি অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি । সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপযুক্ত বিছানা ব্যবহার করাও পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে । মানসিক চাপ এবং ভুল দেহভঙ্গিও পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথার অন্যতম কারণ। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে আমাদের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

পিঠের রগে টান লাগলে ১০ টি করণীয় 

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয়
  • বিশ্রাম নিনঃ ব্যথার সময় পিঠকে বিশ্রাম দেওয়াটা খুব জরুরি। এই সময়ে কোনো কঠিন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন এবং ব্যথার জায়গায় চাপ দেবেন না। আপনার শরীরকে সুস্থ হওয়ার জন্য সময় দিন।
  • বরফ সেঁকঃ প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যথার জায়গায় ১৫-২০ মিনিট বরফ সেঁক দিলে ফোলা এবং ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এটা অনেকটা প্রাথমিক চিকিৎসার মতো কাজ করে।
  • গরম সেঁকঃ বরফ সেঁকের দুই থেকে তিন দিন পর থেকে গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। গরম সেঁক মাংসপেশি শিথিল করতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
  • ব্যথানাশক ওষুধঃ ব্যথা কমানোর জন্য আপনারা প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • হালকা স্ট্রেচিংঃ যদি ব্যথা খুব তীব্র না হয়, তাহলে খুব ধীরে ধীরে হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন। এতে মাংসপেশি শিথিল হবে এবং টান কমে আসবে। কিন্তু জোর করে স্ট্রেচ করবেন না যেন!
  • মালিশঃ হালকা হাতে মালিশ করলে ব্যথার জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়ে, যা ব্যথা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
  • সঠিক ভঙ্গিঃ দৈনন্দিন জীবনে হাঁটাচলা, বসা বা দাঁড়ানোর সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোজা হয়ে বসুন এবং ভারী জিনিস তোলার সময় মেরুদণ্ডের ওপর চাপ না দিয়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
  • সাপোর্টিভ বালিশঃ রাতে ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে সাপোর্টিভ বালিশ ব্যবহার করুন। এটা আপনার পিঠের জন্য খুব আরামদায়ক হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণঃ যদি আপনার ওজন বেশি হয়, তাহলে পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা পিঠের ব্যথা কমানোর জন্য খুবই দরকারি।
  • ফিজিওথেরাপিঃ যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সাধারণ উপায়ে না কমে, তাহলে দেরি না করে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন। তিনি আপনাকে সঠিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

তথ্যসূত্রঃ WebMD (আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট), Physiopedia (আন্তর্জাতিক ফিজিওথেরাপি ডাটাবেস), Medical News Today (আন্তর্জাতিক মেডিকেল নিউজ পোর্টাল)

পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা কেন হয়

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয়

পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথার প্রধান কারণগুলো হলো ভুল দেহভঙ্গি, ভারী জিনিস ভুলভাবে উত্তোলন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, মানসিক চাপ, ব্যায়ামের অভাব, অনুপযুক্ত বিছানা ও বালিশ, হাই হিল জুতা পরা, আঁটসাঁট পোশাক এবং বয়সজনিত অবক্ষয়। 

পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথার প্রধান কারণসমূহ

  • ভুল দেহভঙ্গি ও কুঁজো হয়ে বসাঃ আমি দেখেছি, আমরা অনেকেই চেয়ারে বসার সময় বা হাঁটার সময় কুঁজো হয়ে থাকি। দীর্ঘক্ষণ এভাবে থাকলে মাংসপেশিতে চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হয়।
  • ভারী জিনিস ভুলভাবে উত্তোলনঃ হঠাৎ করে কোনো ভারী জিনিস তোলার সময় আমরা অনেকেই সঠিক পদ্ধতি মানি না। এতে মাংসপেশিতে টান পড়ে।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাঃ অফিসের কাজে বা অন্য যেকোনো কারণে যারা লম্বা সময় ধরে এক জায়গায় বসে থাকেন, তাদের পিঠের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং ব্যথা শুরু হয়।
  • মানসিক চাপ ও স্ট্রেসঃ হয়তো আপনারা ভাবছেন মানসিক চাপের সাথে পিঠের ব্যথার কী সম্পর্ক? কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ আমাদের মাংসপেশিকে শক্ত করে তোলে, যা ব্যথার জন্ম দেয়।
  • ব্যায়ামের অভাবঃ নিয়মিত শরীরচর্চা না করলে মাংসপেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। আর দুর্বল মাংসপেশি সহজে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
  • ভারী ব্যাগ বহনঃ এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহন করলে মেরুদণ্ডে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • অনুপযুক্ত বিছানা ও বালিশঃ যদি আপনার বিছানা খুব নরম বা খুব শক্ত হয়, অথবা বালিশ ঠিক না থাকে, তাহলে ঘুমের সময় পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
  • হাই হিল জুতাঃ যারা নিয়মিত উঁচু হিল পরেন, তাদের মেরুদণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে, যার ফলে পিঠের ব্যথা হতে পারে।
  • আঁটসাঁট পোশাকঃ টাইট জিনস বা স্কার্ট পরলে মাংসপেশিতে চাপ সৃষ্টি হয়, যা অস্বস্তি এবং ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • বয়স ও শারীরিক অবক্ষয়ঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের মাংসপেশি ও হাড়ের স্বাভাবিক ক্ষয় হয়, যা পিঠের ব্যথার একটি কারণ।

তথ্যসূত্রঃ Mayo Clinic (আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান), WebMD (আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট), yorkhospitals. nhs.uk

তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল 

বাতের ব্যথার আয়ুর্বেদিক ওষুধ takhfee

ব্যথা উপশমের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক তেল অত্যন্ত কার্যকর। তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল, যা সাধারণত “ব্যথানাশক তেল” বা “মালিশ তেল” নামে পরিচিত, তা ব্যবহার করলে পেশীগুলো শিথিল হয় এবং ব্যথা দ্রুত কমতে শুরু করে।

পিঠ ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয়

পিঠ ব্যথার প্রধান কারণগুলো হলো ভুল ভঙ্গি, মাংসপেশিতে টান, ডিস্কের সমস্যা, এবং বয়সজনিত ক্ষয়। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে বিশ্রাম, বরফ বা গরম সেঁক, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। যদি ব্যথা না কমে, তাহলে ফিজিওথেরাপি বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।  

পিঠ ব্যথার কারণ

  • মাংসপেশিতে টানঃ ভারী কিছু তোলার সময় বা হঠাৎ করে কোনো অস্বাভাবিক নড়াচড়ার কারণে মাংসপেশিতে টান লাগতে পারে।
  • ভুল দেহভঙ্গিঃ দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে বসা বা কম্পিউটারে কাজ করার সময় ভুল ভঙ্গিতে থাকার কারণে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক সমস্যাঃ মেরুদণ্ডের ডিস্ক ফুলে গেলে বা সরে গেলে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, যা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে।
  • আর্থ্রাইটিসঃ মেরুদণ্ডের জয়েন্টে বাতের প্রদাহ হলে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • অস্টিওপোরোসিসঃ হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে, যার ফলে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • ভারী ব্যাগ বহনঃ একপাশে ভারী ব্যাগ বহন করলে মেরুদণ্ডের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা পিঠের ব্যথার কারণ হয়।
  • মানসিক চাপঃ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ মাংসপেশিকে শক্ত করে তোলে এবং এতে পিঠে টান বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • অনুপযুক্ত বিছানাঃ খুব শক্ত বা খুব নরম বিছানায় ঘুমালে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে, যা পিঠের ব্যথার অন্যতম কারণ।

পিঠ ব্যথার প্রতিকার

  • বিশ্রাম ও বরফ/গরম সেঁকঃ ব্যথা শুরু হওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় বরফ সেঁক দিন, আর এরপর গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করুন।
  • ব্যথানাশক ওষুধঃ ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবেন।
  • স্ট্রেচিং ও ব্যায়ামঃ মেরুদণ্ডকে নমনীয় রাখতে হালকা স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা নিয়মিত হাঁটাচলা করুন।
  • ভঙ্গি সংশোধনঃ কম্পিউটার বা অন্য কোনো কাজ করার সময় সবসময় সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করুন।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণঃ অতিরিক্ত ওজন পিঠের ওপর চাপ বাড়ায়, তাই ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।
  • এরগোনোমিক্সঃ আপনার বসার চেয়ার এবং ডেস্ক এমনভাবে সাজিয়ে নিন যাতে তা আপনার পিঠের জন্য সহায়ক হয়।
  • ফিজিওথেরাপিঃ যদি আপনার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
  • মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনাঃ মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন, পছন্দের গান শোনা বা অন্যান্য আনন্দদায়ক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। 

তথ্যসূত্রঃ

  1. Mayo Clinic (আন্তর্জাতিক মেডিকেল রিসার্চ), WebMD (আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট), Iodex (ভারতীয় মেডিকেল সাইট)

গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যাথা হয় কি?

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে পিঠে ব্যথা হওয়া কি সম্ভব? এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই আসে। আমি আপনাদের জানাতে চাই, হ্যাঁ, গ্যাস্ট্রিকের কারণেও পিঠে ব্যথা হতে পারে। পেটের অ্যাসিড যখন খাদ্যনালীতে উঠে আসে, তখন বুক এবং পিঠে এক ধরনের জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব হতে পারে।

আমি দেখেছি, অনেকে এই ব্যথাকে সাধারণ পিঠ ব্যথা ভেবে ভুল করেন। পেটের ভেতরে থাকা প্রদাহ বা আলসার আশেপাশের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে পিঠের উপরের অংশে ব্যথা ছড়াতে পারে। এমনকি, পেটে যদি অতিরিক্ত গ্যাস জমে, সেটাও অন্ত্রে চাপ সৃষ্টি করে মেরুদণ্ডের কাছের

মাংসপেশিতে ব্যথা তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা খাবারের পর আরও বাড়তে পারে। তবে, পিঠে ব্যথার অন্যান্য কারণ, যেমন কিডনির সমস্যা, এগুলো বাতিল করার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

তথ্যসূত্রঃ

  1. Kaly (আন্তর্জাতিক মেডিকেল ব্লগ), Physiotattva (ভারতীয় ফিজিওথেরাপি সেন্টার), NHS (যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সেবা)

পিঠে ব্যথা কি কিডনি রোগের লক্ষণ?

পিঠে ব্যথা হলেই যে সেটা কিডনি রোগের লক্ষণ হবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। তবে হ্যাঁ, কিডনি রোগের ক্ষেত্রে পিঠে এক বিশেষ ধরনের ব্যথা হতে পারে, যা সাধারণ পিঠের ব্যথার থেকে কিছুটা আলাদা। কিডনিজনিত ব্যথা সাধারণত পাঁজরের নিচের দিকে, কোমরের উপরিভাগে অনুভূত হয় এবং এই ব্যথা একটানা থাকে।

আমি জানি, এই ধরনের ব্যথা খুবই অস্বস্তিকর। এই ব্যথার সাথে জ্বর, বমি বমি ভাব, প্রস্রাবে রক্ত আসা অথবা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়ার মতো লক্ষণও থাকতে পারে। মূলত কিডনিতে পাথর জমা বা সংক্রমণের কারণে এমন তীব্র ব্যথা হয়।

তাই, যদি আপনার পিঠে ব্যথার সাথে এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি। কারণ সাধারণ মেরুদণ্ডের ব্যথার সাথে এর পার্থক্য রয়েছে এবং সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত প্রয়োজন।

পিঠে ব্যথা কি ক্যান্সারের লক্ষণ?

পিঠে ব্যথা হলেই যে গুরুতর কিছু হয়েছে, এমনটা ভাবা সব সময় ঠিক নয়। কারণ, এই ব্যথা সাধারণত মাংসপেশি, হাড় অথবা স্নায়ুর সাধারণ সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। তবে, পিঠে ব্যথা কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গের সাথে দেখা দেয়।

মেরুদণ্ডে যদি কোনো টিউমার তৈরি হয় অথবা শরীরের অন্য কোথাও থেকে ক্যান্সার কোষ মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পিঠে তীব্র ব্যথা হতে পারে। যেমন, ফুসফুস, প্রোস্টেট, স্তন, কিডনি বা মূত্রাশয়ের মতো অঙ্গের ক্যান্সার মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

অনেক সময় কিডনি ক্যান্সারের কারণে পিঠের নিচের দিকে একপাশে ব্যথা হতে পারে, যার সাথে প্রস্রাবে রক্ত আসা বা জ্বরও থাকতে পারে। যদি ব্যথা রাতে বা বিশ্রামের সময় বাড়ে এবং এর সাথে পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ক্যান্সারজনিত ব্যথা সাধারণত অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস, ক্লান্তি এবং রক্তশূন্যতার মতো আরও কিছু লক্ষণের সাথে থাকে এবং সময়ের সাথে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। তাই, এমন কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলা জরুরি।

তথ্যসূত্রঃ, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

পিঠে ব্যথা কি দুশ্চিন্তার সাথে যুক্ত?

পিঠে ব্যথা এবং দুশ্চিন্তার মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক আছে, এটা আমার বিশ্বাস। আমার মনে হয়, আমাদের মন এবং শরীর একে অপরের সাথে এমনভাবে জড়িত যে, একটির ওপর প্রভাব পড়লে অন্যটিও প্রভাবিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমরা দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তায় ভুগি, তখন আমাদের পেশীগুলো শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। মাইও ক্লিনিকও এই কথাটি সমর্থন করে।

তারা বলেন, মানসিক চাপের কারণে পেশীগুলো দীর্ঘক্ষণ টানটান অবস্থায় থাকলে ব্যথা এবং এক ধরনের জড়তা অনুভব হয়। এছাড়া, দুশ্চিন্তার কারণে আমাদের বসার বা দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন কুঁজো হয়ে বসা, যা পিঠের পেশী ও হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। এর পাশাপাশি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও এই ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

হার্ভার্ড হেলথের একটি প্রতিবেদনে আমি দেখেছি, দুশ্চিন্তা আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে এতটাই সক্রিয় করে তোলে যে, ব্যথার অনুভূতি অনেক বেড়ে যায়। আবার, উল্টোভাবে, দীর্ঘস্থায়ী পিঠে ব্যথা নিজেই দুশ্চিন্তা এবং অবসাদের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে। তবে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক জানিয়েছে, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মাইন্ডফুলনেস টেকনিক এই চক্র ভাঙতে বেশ সহায়ক। আমার মনে হয়, মানসিক সুস্থতা আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য কতটা জরুরি, তা এই বিষয়টি থেকেই বোঝা যায়।

তথ্যসূত্রঃ ইনস্পায়ার্ড হেলথ, হার্ভার্ড হেলথ

ব্যক্তিগত মতামতঃ পিঠের রগে টান লাগলে করণীয়

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয় হিসেবে আমি মনে করি প্রথমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াটা ভীষণ জরুরি। ব্যথার প্রাথমিক পর্যায়ে, অর্থাৎ প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত স্থানে ১৫-২০ মিনিটের জন্য বরফ সেঁক দিলে ফোলা ও ব্যথা অনেকটাই কমে আসে । এরপর দুই থেকে তিন দিন পর থেকে গরম সেঁক ব্যবহার করতে পারেন, যা মাংসপেশি শিথিল করতে ও রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে । যদি ব্যথা খুব তীব্র না হয়, তাহলে হালকা স্ট্রেচিং বা মালিশ করলে মাংসপেশি শিথিল হতে পারে এবং রক্ত ​​চলাচল বেড়ে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। 


দৈনন্দিন জীবনে হাঁটাচলা, বসা বা দাঁড়ানোর সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে সাপোর্টিভ বালিশ ব্যবহার করাও বেশ আরামদায়ক । মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ওজন পিঠের ওপর চাপ বাড়ায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি । যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সাধারণ উপায়ে না কমে, তাহলে দেরি না করে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত । শরীরের কথা শোনা এবং তাকে সুস্থ হওয়ার জন্য সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই ব্যক্তিগত মতামত আপনাদের উপকারে আসবে। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন।

FAQ:

পিঠের রগে টান লাগলে করণীয় সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১. ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ
২. বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ
৩. ডান ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ
Share this article
Shareable URL
Prev Post

 পেটের বাম পাশে ব্যথা কেন হয়? জানুন ১০টি ঘরোয়া সমাধান

Next Post

গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কি?  ১০ টি উপকারিতা ও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না? ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ সবজি যা এড়িয়ে চলবেন!

গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না এটি জানাটা প্রত্যেক মায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু সবজি আপনার…
গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না