টাইফয়েড জ্বরে হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। তাই সহজপাচ্য, কম তেল-মসলা, সেদ্ধ খাবার খেতে হয়। যেমন—ভাত, সেদ্ধ ডিম, ফলের রস, স্যুপ, দই ইত্যাদি। খাওয়া উচিত বেশি করে তরল খাবার। বাইরের খাবার, দুধ ও আঁশযুক্ত খাবার একেবারে না। (উৎস: Healthline )
টাইফয়েড জ্বর একটি গুরুতর রোগ, যা বিশ্বজুড়ে সারা বছরই দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজারো মানুষ আক্রান্ত হয়। জ্বর ও ডায়রিয়া ছাড়া অন্যান্য উপসর্গ যেমন বমি, দুর্বলতা, বমিভাব মানুষের শক্তি কমিয়ে দেয়। সঠিক খাবার না খেলে সমস্যা বাড়ে।
টাইফয়েড জ্বর শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং হজম প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তাই পুষ্টিকর এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধায় ভোগেন। আজ আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করতে এই তথ্যগুলো খুবই সহায়ক হবে।
কী টেকঅ্যাওয়ে (Key Takeaways)
- টাইফয়েড জ্বরে নরম ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খান।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করুন।
- প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরকে শক্তি যোগায়।
- ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- তৈলাক্ত, মশলাদার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।
টাইফয়েড জ্বর কেন হয়?
টাইফয়েড জ্বর হল সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। এটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে।
এই রোগটি সাধারণত দুর্বল স্যানিটেশন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বেশি ছড়ায়। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং বিশুদ্ধ পানি পান করা খুবই জরুরি।
টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ কী কী?
টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষণগুলো হল:
- উচ্চ জ্বর: ১০২-১০৪°F, যা ধীরে ধীরে বাড়ে।
- দুর্বলতা ও ক্লান্তি: শরীরে শক্তির অভাব।
- পেটের সমস্যা: ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য।
- ক্ষুধামান্দ্য: খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া।
- মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা: সাধারণ অস্বস্তি।
- গোলাপী ফুসকুড়ি: ত্বকে ছোট ছোট দাগ (কিছু ক্ষেত্রে)।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “জ্বর ৩ দিনের বেশি থাকলে বা পেটের সমস্যা তীব্র হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা (যেমন Widal test বা কালচার) করান। সময়মতো চিকিৎসা জটিলতা কমায়।”
টাইফয়েডে কেন খাবার গুরুত্বপূর্ণ?
টাইফয়েড হলে—
- হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যায়
- গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে প্রদাহ হয়
- রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে
তাই রোগীর পুষ্টি, শক্তি ও হজম ঠিক রাখতে সঠিক খাবার খাওয়া জরুরি। না হলে—
- ওষুধ কাজ করে না
- জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়
- শরীর ভেঙে পড়ে
টাইফয়েড জ্বরে কি কি খাওয়া উচিত?
টাইফয়েড জ্বরের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
ভুল খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে এবং রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
ডা. ফারজানা হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ, বলেন, “টাইফয়েড জ্বরে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও হাইড্রেশন দ্রুত সুস্থতার চাবিকাঠি। অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি পুষ্টিকর, হজমে সহজ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।”
টাইফয়েডে কী খাওয়া উচিত? (এক নজরে)
খাবার | পরিমাণ | কেন খাবেন |
সাদা ভাত | আধা কাপ থেকে ১ কাপ, দিনে ৩ বার | হালকা, সহজে হজম হয় |
খিচুড়ি (কম মসলা) | ১ বাটি | পুষ্টি ও শক্তি দেয় |
সেদ্ধ ডিম | ১টা (প্রতিদিন) | প্রোটিন, রোগপ্রতিরোধ |
কলা, পাকা পেঁপে | ১-২ পিস | হজমে সাহায্য করে |
ডাবের পানি | ১ গ্লাস, দিনে ২ বার | ইলেকট্রোলাইট পূরণ |
স্যুপ (চিকেন/সবজি) | ১ বাটি | পুষ্টি ও জলীয় অংশ |
সেদ্ধ সবজি | অল্প করে | আঁশ কম, সহজ হজম |
সাদা রুটি | ১-২ পিস | হালকা ও ঝুঁকিমুক্ত |
দই | ২ চামচ | ভালো ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ |
আসুন জেনে নিই টাইফয়েড জ্বরে কোন খাবারগুলো আপনার জন্য ভালো।
১. নরম ও সহজে হজম হয় এমন খাবার
টাইফয়েড জ্বরে পাচনতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এমন খাবার খান যা হজম করতে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় না।
এই সময় খুব উপকারী নরম ও সহজে হজম হয় এমন খাবার হল –
ক. ভাত ও জাউ ভাত
নরম ভাত বা জাউ ভাত টাইফয়েড জ্বরের সময় একটি আদর্শ খাবার। এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরকে শক্তি যোগায়।
আপনি চাইলে জাউ ভাতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করবে।
খ. সুজি ও সাগু
সুজি এবং সাগু খুব হালকা খাবার। এগুলো শরীরে শক্তি যোগায় এবং দ্রুত হজম হয়।
দুধ বা পানি দিয়ে সুজি বা সাগু রান্না করে খেতে পারেন। এটি আপনার ক্ষুধা নিবারণ করবে এবং শরীরকে দুর্বল হতে দেবে না।
গ. সেদ্ধ সবজি
সেদ্ধ আলু, কুমড়া, লাউ, পেঁপে ইত্যাদি সবজি টাইফয়েড জ্বরে খুব উপকারী। এগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ এবং সহজে হজম হয়।
এছাড়াও, এই সবজিগুলো ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ সরবরাহ করে, যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
২. পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার
টাইফয়েড জ্বরে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করা খুবই জরুরি।
ক. বিশুদ্ধ পানি
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। এটি শরীরকে সতেজ রাখতে এবং টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করা উচিত, যাতে কোনো জীবাণু না থাকে।
খ. ডাবের পানি
ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ। এটি শরীরকে শক্তি যোগায় এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে।
ডা. ফারজানার পরামর্শ: “ডাবের পানি শরীরের পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে।”
টাইফয়েড জ্বরের সময় ডাবের পানি পান করা খুবই উপকারী। এটি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
গ. ফলের রস
টাটকা ফলের রস যেমন কমলা, আপেল, আঙ্গুর, এবং বেদানা রস পান করুন। এগুলো ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।
তবে, ফলের রস ছেঁকে পান করা উচিত, যাতে কোনো ফাইবার না থাকে যা হজমে সমস্যা করতে পারে।
ঘ. স্যুপ
সবজির স্যুপ বা চিকেন স্যুপ এই সময় খুব উপকারী। এটি শরীরকে পুষ্টি যোগায় এবং গলা ব্যথা কমায়।
স্যুপে কম মশলা ব্যবহার করুন এবং সেদ্ধ সবজি বা চিকেন ব্যবহার করুন।
এগুলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং শক্তি যোগায়।
৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
প্রোটিন শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই টাইফয়েড জ্বরে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।
ক. নরম সেদ্ধ ডিম: ডিম প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। টাইফয়েড জ্বরে নরম সেদ্ধ ডিম খাওয়া যেতে পারে। এটি শরীরকে শক্তি যোগায় এবং হজমেও সমস্যা করে না।
খ. পাতলা মাছ ও চিকেন: নরম সেদ্ধ মাছ বা চিকেন স্যুপ টাইফয়েড জ্বরে খুব উপকারী। এগুলো প্রোটিন সরবরাহ করে এবং হজমেও হালকা।
বিশেষ করে ছোট মাছ বা মুরগির বুকের মাংস বেছে নিতে পারেন।
গ. ডাল: পাতলা মুগ ডাল বা মসুর ডাল টাইফয়েড জ্বরে ভালো। এটি প্রোটিনের একটি ভালো উৎস এবং সহজে হজম হয়। ডাল হালকা করে রান্না করুন এবং প্রচুর পানি ব্যবহার করুন।
৪. ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার
ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই টাইফয়েড জ্বরে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
- লেবু ও কমলা: লেবু ও কমলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। লেবুপানি বা কমলার রস পান করতে পারেন। তবে, টাটকা ফল ব্যবহার করা উচিত।
- পেঁপে ও কলা: পেঁপে এবং কলা হজমে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি যোগায়। পেঁপেতে ভিটামিন এ এবং কলাতে পটাশিয়াম থাকে।
এগুলো নরম হওয়ায় সহজে হজম হয়।
নমুনা দৈনিক খাদ্যতালিকা
সময় | খাবার | পরিমাণ | উপকারিতা |
সকাল ৮টা | জাউ ভাত, সেদ্ধ আলু | ১ বাটি, ১ টুকরো | শক্তি, হজমে সহজ |
সকাল ১০টা | ডাবের পানি | ১ গ্লাস | হাইড্রেশন, ইলেক্ট্রোলাইট |
দুপুর ১২টা | মুগ ডাল, সেদ্ধ লাউ, নরম ভাত | ১ বাটি, ১ বাটি | প্রোটিন, ফাইবার, শক্তি |
বিকেল ৪টা | কলা, কমলার রস | ১টি, ১ গ্লাস | ভিটামিন সি, পটাশিয়াম |
রাত ৮টা | সবজির স্যুপ, সেদ্ধ ডিম | ১ বাটি, ১টি | পুষ্টি, হজমে সহজ |
টাইফয়েড জ্বরে কি কি খাওয়া উচিত নয়?
টাইফয়েড জ্বরের সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, যা আপনার হজমে সমস্যা করতে পারে বা রোগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন:
- তৈলাক্ত/মশলাদার খাবার: বিরিয়ানি, ফাস্ট ফুড, ভাজা খাবার পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া বাড়ায়।
- অতিরিক্ত ফাইবার: ব্রাউন রাইস, কাঁচা শাকসবজি হজমে কঠিন।
- দুগ্ধজাত পণ্য: দুধ, পনির, মাখন (ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে এড়ান)।
ডা. ফারজানার পরামর্শ: “দুধ হজমে সমস্যা করলে পাতলা দুধ বা দই অল্প পরিমাণে খান।” - ক্যাফেইন/কার্বনেটেড পানীয়: চা, কফি, সোডা ডিহাইড্রেশন বাড়ায়।
- কাঁচা ফল/সবজি: দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে; সেদ্ধ করুন।
টাইফয়েড জ্বরের সময় খাবার গ্রহণ সংক্রান্ত টিপস
টাইফয়েড জ্বরের সময় খাবার গ্রহণ করার কিছু বিশেষ নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার সুস্থ হয়ে ওঠা দ্রুত হবে।
- দিনে ৫-৬ বার অল্প অল্প করে খাবেন
- একবারে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে খাবেন
- বিশুদ্ধ পানি ছাড়া কিছু খাবেন না
- প্রতিটি খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করুন
- খাবার গরম করে খান
- রান্নার আগে ও খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন
টাইফয়েড জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নিবেন?
টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বর, পেট ব্যথা, দুর্বলতা, এবং ক্ষুধা কমে যাওয়া এর প্রধান লক্ষণ।
যদি আপনার জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান।
কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে টাইফয়েড জ্বরের রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। যদি আপনার ডিহাইড্রেশন গুরুতর হয়, রক্তচাপ কমে যায়, বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হতে পারে।
এছাড়াও, যদি আপনি মুখে খাবার গ্রহণ করতে না পারেন বা বমি হতে থাকে, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।
শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য খাবার গাইড
শিশুরা টাইফয়েডে দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। তাই:
- বুকের দুধ চালিয়ে যান (যদি বুকের বয়সে থাকে)
- স্যুপ, দানাদার না করে সুজি, কলা, ডাল পানি দিন
- শিশুদের ব্যথা বা বমি হলে অতিরিক্ত সতর্ক হোন
বৃদ্ধদের জন্য:
- হালকা ডাল, সিদ্ধ মাছ/চিকেন স্যুপ দিন
- গাজর, লাউ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে দিন
- খাবারে লবণ সামান্য বাড়াতে পারেন (ডিহাইড্রেশন এড়াতে)
রোগ প্রতিরোধে করণীয়
- ফুড-সেফটি নিশ্চিত করুন। ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করুন
- ফুটানো পানি বা বোতলজাত পানি পান করুন
- টয়লেট ব্যবহার পর ভালো সাবান দিয়ে হাত ধুন / হাইজিন বজায় রাখুন
- রোগী থেকে দূরে বসুন, বা মুখে মাস্ক রাখুন
- টাইফয়েড টিকা (2–4 বছর মেয়াদি সুরক্ষা) নিন – বিশেষ করে প্রবেশ পথে থাকলে
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. টাইফয়েড হলে কি আইসক্রিম খাওয়া যায়?
না, ঠান্ডা ও দুগ্ধজাত হওয়ায় আইসক্রিম খেলে পেট খারাপ বা ডায়রিয়া হতে পারে। একদম এড়িয়ে চলুন।
২. টাইফয়েড হলে কি ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত?
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নয়। তবে ভিটামিন সি যুক্ত টাটকা ফল ও স্যুপ হতে পারে প্রাকৃতিক বিকল্প।
৩. টাইফয়েডে ওজন কমে গেলে কী করবেন?
প্রোটিন ও ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন ডাল, ডিম, চিকেন স্যুপ, কলা।
৪. জ্বর না থাকলে কী আবার সব খাবার খাওয়া যাবে?
না। ১০-১৫ দিন পর্যন্ত হালকা খাবার খেতে হবে। হজম ক্ষমতা পুরোপুরি না ফিরলে আবার অসুস্থ হতে পারেন।
টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত দ্রুত সুস্থ হতে৫. টাইফয়েড হলে কি চা খাওয়া যাবে?
হালকা লেবু চা খাওয়া যায়, তবে চিনি কম এবং দুধ ছাড়া খাওয়া ভালো। ব্ল্যাক টি বা গ্রিন টি এড়িয়ে চলুন।
উপসংহার
টাইফয়েড জ্বর একটি গুরুতর রোগ, যা সঠিক যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাস দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই সময় নরম, সহজে হজম হয় এমন এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা খুবই জরুরি। পর্যাপ্ত তরল খাবার পান করা এবং তৈলাক্ত, মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলা আপনার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য।
মনে রাখবেন, কোনো অসুস্থতায় নিজের মনগড়া চিকিৎসা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আপনার সুস্থ জীবনই আমাদের কাম্য। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে বা কোনো তথ্য জানতে চাইলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
টাইফয়েড জ্বরে কী খাবেন, কী এড়াবেন? জাউ ভাত, ডাবের পানি, সেদ্ধ সবজির মতো পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত সুস্থ হন। বিস্তারিত খাদ্যতালিকা ও টিপস জানুন।

BSES+Advance Nutritionist