আপনার কি হঠাৎ করে ওজন কমে যাচ্ছে? বা পেটের ডান পাশে চাপ অনুভব করছেন? চোখে কিংবা ত্বকে কি হলদে ভাব? তাহলে সাবধান হোন! এসব হতে পারে লিভার ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ।
লিভার মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি রক্ত পরিশোধন, শক্তি উৎপাদন এবং দেহের টক্সিন বের করার কাজ করে। কিন্তু যখন এই অঙ্গটিতে ক্যান্সার হয়, তখন তা পুরো শরীরেই প্রভাব ফেলে।
লিভার ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় লক্ষণহীন থাকে। আর এ কারণেই রোগটি অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে। তবে সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। এই ব্লগে আমরা জানব—লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
লিভার ক্যান্সার কী?
লিভার ক্যান্সার এমন একটি অবস্থা যেখানে লিভারের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং টিউমার তৈরি করে। এতে লিভার তার কাজ করতে পারে না।
এটি দুই ধরনের হতে পারে—প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সার।
প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার লিভারের কোষ থেকেই শুরু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রকার হলো হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা (HCC), যা লিভারের প্রধান কোষ হেপাটোসাইট থেকে সৃষ্টি হয়।
সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সার তখন দেখা দেয় যখন অন্য কোনো অংশের ক্যান্সার (যেমন স্তন বা ফুসফুসের) লিভারে ছড়িয়ে পড়ে।
লিভার ক্যান্সার কেন হয়? ঝুঁকি ফ্যাক্টরসমূহ
লিভার ক্যান্সার এক দিনে হয় না। এটা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ফল। কিছু কারণ আছে, যেগুলো সরাসরি লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য দায়ী হয়।
সবার জন্য লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি সমান নয়। কিছু নির্দিষ্ট কারণ আপনার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিচে এই ফ্যাক্টরগুলো এবং কারণসমূহ চিহ্নিত করা হলো—
১. হেপাটাইটিস B ও C ভাইরাস: এই ভাইরাসগুলো লিভারে দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ ঘটায়। এতে কোষগুলোর গঠন নষ্ট হয়ে যায়।
যারা দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত, তাদের লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস B ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি ১০০ গুণ বেশি। -ডাঃ সাঈদুল ইসলাম, হেপাটোলজিস্ট
২. অতিরিক্ত অ্যালকোহল: নিয়মিত মদ্যপান লিভারে চর্বি জমায়, সেল নষ্ট করে, আর শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
৩. লিভারের সিরোসিস: এই অবস্থা লিভার টিস্যুতে স্কার তৈরির মাধ্যমে লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
৪. ফ্যাটি লিভার বা চর্বিযুক্ত লিভার রোগ: যারা বেশি তৈলাক্ত খাবার খান, ওজন বেশি, কিংবা ডায়াবেটিসে ভুগছেন—তাদের লিভারে চর্বি জমে। এটা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. আফ্লাটক্সিন বিষাক্ত ছত্রাক: অ্যাফ্লাটোক্সিন নামে পরিচিত কিছু ছত্রাক বিষাক্ত টক্সিন উৎপন্ন করে, যা খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। বাসি ভাত, পচা বাদাম বা দানাদার খাদ্যে থাকা এই টক্সিন। WHO মতে, আফ্লাটক্সিন ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
৬. বংশগত কারণ: যদি আপনার পরিবারে কেউ লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, তাহলে আপনার ঝুঁকি তুলনায় বেশি হতে পারে।
৭. পরিবেশ দূষণ ও রাসায়নিক: পানিতে আর্সেনিক, শিল্পকারখানার বর্জ্য ও ক্ষতিকর রাসায়নিক লিভারে জমে গিয়ে ক্যান্সার তৈরি করে।
মেহেদী হাসান (৩৭), একজন ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক গ্যাসে কাজ করার কারণে তার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ধরা পড়ে লিভার ক্যান্সার।
৪. ওবেসিটি এবং ডায়াবেটিস: স্থূলতা ও ডায়াবেটিস লিভারে ফ্যাট জমা করে (নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ), যা লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হতে পারে।
ডাক্তারের পরামর্শ:
“হেপাটাইটিস ভাইরাসে সংক্রমণ রোধ করতে হলে টিকা নেয়া আর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।” – ডাঃ রাশেদুল ইসলাম (হেপাটোলজিস্ট)
লিভার ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ
লিভার ক্যান্সারের প্রাথমিক ধাপগুলোতে লক্ষণ প্রায়শই অনুপস্থিত থাকে বা খুবই মৃদু হয়। এই কারণেই অনেক সময় ক্যান্সারটি দেরিতে শনাক্ত হয়। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যা বিষয়টির উপলব্ধি করতে সাহায্য করতে পারে।
এগুলো হলো—
১. ক্লান্তি এবং দুর্বলতা
বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা লিভার ক্যান্সারের একটি প্রধান লক্ষণ হতে পারে। লিভার রক্ত পরিষ্কার করা এবং শক্তি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায়, এর কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. ওজন কমে যাওয়া
হঠাৎ এবং অনিয়ন্ত্রিত ওজন হ্রাস লিভার ক্যান্সারের একটি বড় লক্ষণ। যদি আপনাকে না বলে শরীর থেকে ওজন কমে যায় এবং এর সঙ্গে ক্ষুধামন্দা যুক্ত হয়, তবে এটি লিভারে সমস্যার ইঙ্গিত করতে পারে।
লিভার ক্যান্সার হলে শরীরের পুষ্টি গ্রহণ কমে যায় আর কোষগুলো দ্রুত ক্ষয় হয়। বাংলাদেশে গবেষণায় দেখা গেছে, লিভার ক্যান্সার রোগীর প্রায় ৭০% ওজন কমে যাওয়ার সমস্যা থাকে।
৩. ক্ষুধামন্দা
লিভার ক্যান্সারের প্রভাবে অনেকেই খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এমনকি সামান্য খাবার খেলেও পেট ভরে গেছে বলে মনে হতে পারে।
৪. পেট বা ডানদিকে ব্যথা
পেটের ডান পাশে, বিশেষ করে নিচের অংশে ব্যথা অনেক সময় লিভারের সমস্যা বোঝায়। ডাক্তারেরা বলেন, লিভারে টিউমার বেড়ে গেলে পেটের এই অংশে চাপ পড়ে ব্যথা হতে পারে। ব্যথাটি মাঝে মাঝে কাঁধ বা পিঠেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “লিভারের ব্যথা সাধারণ ব্যথার মতো নয়, এটি স্থায়ী ও তীব্র হয়।” (source: shopnik.com.bd)
৫. চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া (পিলেরিয়া)
এই হলুদ ভাবটা দেখে সবাই একটু ভয় পায়। চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া মানে লিভারে সমস্যা হচ্ছে। কারণ লিভার ঠিক মতো কাজ করতে পারছে না, ফলে রক্তে বিলিরুবিন জমে যায়।
ডা. সুমন মিয়া বলেন, “পিলেরিয়া লিভার ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।” (source: arogyabani.com)
৬. পেট ফোলাভাব (অ্যাসাইটিস)
লিভারের সমস্যা হলে পেটে পানি জমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে বলে অ্যাসাইটিস। এতে পেট ফুলে যায়, হাঁটাচলা কষ্টকর হয়। রোগীরা বলেন, “আমার পেট এমন ফেটে গেছে, মনে হয় বেলুন ফোলানো হয়েছে!” এটা লিভার ক্যান্সারের একটি গুরুতর লক্ষণ।
৭. বমি বমি ভাব বা বমি করা
লিভার ক্যান্সারের কারণে পাচনতন্ত্রে প্রভাব পড়তে পারে। এটি খাবার হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে, যার ফলস্বরূপ বমি বমি লাগা বা বমি করা হতে পারে।
৮. জ্বর
কিছু ক্ষেত্রে, লিভার ক্যান্সারের সঙ্গে জ্বরও যুক্ত হতে পারে, যা শরীরের অস্বাভিক প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে।
৯. রক্তক্ষরণ বা আঘাতের পরে সহজেই ক্ষত তৈরি
লিভার রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে। যখন এটি কার্যক্ষমতায় হ্রাস পায়, তখন ছোটখাটো আঘাতেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
১০. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে দুর্বলতা
যখন লিভার তার রক্ত পরিশোধন ক্ষমতা হারায়, তখন টক্সিন মস্তিষ্কে জমা হতে শুরু করে। এর ফলে মনোযোগ ধরে রাখার সমস্যা বা স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
আরো কিছু লক্ষণ যেগুলো উপেক্ষা করা বিপজ্জনক
- ঘন ঘন জ্বর
- চুল পড়া ও ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া
- হাত-পা ফুলে যাওয়া
- পায়খানার রঙ সাদা বা খুব হালকা হওয়া
কখন ডাক্তারকে দেখানো উচিত?
লিভার ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলা করা উচিত নয়। যদি আপনি উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলোর মধ্যে কয়েকটি অনুভব করেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
বিশেষত নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা জরুরি—
- আপনার চোখ বা ত্বক হঠাৎ হলুদ হয়ে গেছে।
- অস্বাভাবিক পেট ব্যথা বা ফোলাভাব অনুভব করছেন।
- কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া আপনার ওজন দ্রুত কমেছে।
- যদি জ্বর বা দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদি হয়।
লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতি
১. অস্ত্রোপচার (Surgery)
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যান্সারগ্রস্ত টিস্যু অপসারণ করা যায়। এটি “লিভার রিসেকশন” নামে পরিচিত। কেমোথেরাপির আগে বা পরে করা হতে পারে।
২. লিভার ট্রান্সপ্লান্ট
যখন লিভারের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপসারণ সম্ভব নয়, তখন সুস্থ দাতার লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি জটিল হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর।
৩. কেমোথেরাপি
ওষুধের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার পদ্ধতি। এটি মুখে খাওয়া ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমি, চুল পড়া, দুর্বলতা।
৪. রেডিওথেরাপি
রেডিয়েশন দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। এটি বাইরে থেকে বা শরীরের ভেতরে রেখেও করা যায়। সাধারণত ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
৫. টার্গেটেড থেরাপি
এটি নির্দিষ্ট প্রোটিন বা জিনকে লক্ষ্য করে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ করে। এটি সাধারণত অন্যান্য পদ্ধতি ব্যর্থ হলে প্রয়োগ করা হয়।
৬. ইমিউনোথেরাপি
শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করে। এটি বর্তমানে নতুন কিন্তু কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
৭. লোকাল থেরাপি
যেমন:
- Ablation therapy: গরম বা ঠান্ডা তরঙ্গের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা।
- Embolization therapy: রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে টিউমার ছোট করা।
চিকিৎসা চলাকালে করণীয়
- নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন (হালকা, সহজপাচ্য খাবার)
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভেষজ বা অতিরিক্ত ওষুধ খাবেন না
- মানসিকভাবে শক্ত থাকুন এবং পরিবারের সহায়তা নিন
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান
কীভাবে প্রতিরোধ সম্ভব?
লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য অভ্যাস অনুসরণ করা যায়—
- হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের জন্য টিকা নিন।
- অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা সীমিত করুন।
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য থেকে দূরে থাকুন, বিশেষত ফাঙ্গাসযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- সময়ে সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
লিভার ক্যান্সার কি ছোঁয়াচে?
না, লিভার ক্যান্সার ছোঁয়াচে নয়।
এই ক্যান্সার অন্য কাউকে ছড়ায় না। কারো পাশে বসলে, খাবার শেয়ার করলে বা ছুঁলে এটি সংক্রমিত হয় না। তবে হেপাটাইটিস B ও C ভাইরাস ছোঁয়াচে এবং এই ভাইরাস থেকেই অনেক সময় লিভার ক্যান্সার হয়।
তাই, ভাইরাসজনিত রোগ থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। টিকা নেওয়া, নিরাপদ রক্ত গ্রহণ, এবং পরিষ্কার জীবনযাপন করলে ঝুঁকি কমে।
বাচ্চাদের মধ্যে লিভার ক্যান্সার হয় কিনা?
হ্যাঁ, তবে খুব কম ক্ষেত্রে।
বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরনের লিভার ক্যান্সার হয়, যাকে বলে হেপাটোব্লাস্টোমা। এটি সাধারণত ৩ বছরের নিচে শিশুদের হয়ে থাকে। কারণ হিসেবে জন্মগত জিনগত সমস্যা, ওজন কম নিয়ে জন্মানো বা পিতামাতার ভাইরাল ইতিহাসকে দায়ী করা হয়।
লক্ষণগুলো:
- পেটের ডান পাশে ফোলা
- ক্ষুধা না থাকা
- ওজন না বাড়া
- চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
যদি এসব লক্ষণ দেখা যায়, তৎক্ষণাৎ শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক সময় সার্জারির মাধ্যমে পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব।
লিভার ক্যান্সারে খাদ্যতালিকায় কী রাখা উচিত?
খাবার লিভার সুস্থ রাখে। আর রোগ হলে সেটা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখে।
যা খাবেন:
- সবুজ শাকসবজি: ব্রকলি, পালং, ঢেঁড়স
- ফল: আপেল, পেয়ারা, পেঁপে
- প্রোটিন: ডিমের সাদা অংশ, সেদ্ধ মুরগি, মসুর ডাল
- উচ্চ ফাইবার খাবার: ওটস, বাদাম, ছোলা
- জলযুক্ত খাবার: পানি, স্যুপ, ডাব
- হালকা রান্না করা খাবার: ভাজা বা ঝাল এড়িয়ে চলুন
যা খাবেন না:
- অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
- ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড
- প্রসেসড মিট
- অতিরিক্ত লবণ ও চিনি
- কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস (কোলা, সফট ড্রিংক)
- বাসি বা ফাঙ্গাসযুক্ত খাবার
“লিভার ক্যান্সারে রোগীর পেট প্রায়ই ফাঁপে, তাই সহজপাচ্য ও হালকা খাবার খাওয়ানো উচিত।” – ডাঃ ফারজানা আফরিন (পুষ্টিবিদ)
সঠিক খাদ্যতালিকা শরীরকে শক্তি দেয়, রোগ প্রতিরোধ করে এবং কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: লিভার ক্যান্সার কি চিরতরে ভালো হয়?
উত্তর: যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে এটি নির্ভর করে ক্যান্সারের ধরন, স্টেজ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর।
প্রশ্ন: হেপাটাইটিস B টিকা নিলে কি লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। হেপাটাইটিস B ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া গেলে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যায়। WHO-এর মতে, এই টিকা শতকরা ৯৫% কার্যকর।
প্রশ্ন: লিভার ক্যান্সারে কি অপারেশন করতেই হবে?
উত্তর: সব ক্ষেত্রে না। যদি ক্যান্সারটি অপসারণযোগ্য হয়, তখন অপারেশন করা হয়। অনেক সময় কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা টার্গেট থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন: লিভার ক্যান্সারে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
উত্তর: চুল পড়া, বমি, দুর্বলতা, রুচিহীনতা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা এখন অনেকটাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
প্রশ্ন: লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ে কোন টেস্ট দরকার হয়?
উত্তর: রক্তের ‘AFP টেস্ট’, আলট্রাসোনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান ও বায়োপসি প্রয়োজন হতে পারে। এগুলো ক্যান্সারের উপস্থিতি ও অবস্থান নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন: কি ধরনের ডাক্তার দেখানো উচিত?
উত্তর: গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, হেপাটোলজিস্ট বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তারা সঠিক টেস্ট এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা দেন।
প্রশ্ন: প্রতিদিনের কোন অভ্যাস লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে?
উত্তর: হেলদি খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান বন্ধ রাখা, পরিমিত ওজন বজায় রাখা, এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
উপসংহার
লিভার ক্যান্সার একটি গুরুতর রোগ যা সময়মতো সনাক্ত করা হলে দ্রুত চিকিৎসার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই ব্লগে উল্লেখিত লক্ষণ ও ঝুঁকি ফ্যাক্টর সম্পর্কে সচেতন থাকার মাধ্যমে আপনি নিজে ও আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষা দিতে পারেন।
যদি কোনো সময় সন্দেহ হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই রোগ নিরাময়ের প্রথম ধাপ।
সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন!

BSES+Advance Nutritionist