ব্যাথা নিরাময়ে বিশস্ত সঙ্গি

শিশুর অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ

শিশুর অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ

শিশুর অতিরিক্ত ঘাম বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি রোগের লক্ষণও হতে পারে। সাধারণত, অতিরিক্ত ঘাম হাইপারহাইড্রোসিস, ভিটামিন ডি-এর অভাব, হৃদরোগ, বা কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার এর কারণে হতে পারে। 

শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া একটি সাধারণ বিষয় হলেও শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম অনেক সময় বাবা-মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন পরিবেশগত উষ্ণতা বা অতিরিক্ত পোশাক। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি কোনো অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই শিশুর অতিরিক্ত ঘামের কারণ বোঝা এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন

শিশুর অতিরিক্ত ঘামের পেছনে কারণ

শিশুদের অতিরিক্ত ঘামের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু সাধারণ কারণ হলো, অতিরিক্ত গরম বা ভারী পোশাক পরা, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের শরীরের তাপ শিশুর শরীরে লাগা, অথবা সাধারণ শারীরিক পরিশ্রম। এছাড়াও কিছু মেডিকেল কন্ডিশন যেমন, হাইপার থাইরয়েডিজম, হৃদরোগ বা সংক্রমণও অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে। 

শিশুদের অতিরিক্ত ঘামের ৭টি সম্ভাব্য কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. অতিরিক্ত গরম বা ভারী পোশাক: শিশুরা গরমের অনুভূতি বেশি বুঝতে পারে। তাই, অতিরিক্ত গরম বা ভারী পোশাক পরালে তাদের ঘাম হতে পারে। 

২. বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের শরীরের তাপ শিশুর শরীরে লাগতে পারে, যার কারণে শিশুর মাথায় বা শরীরে ঘাম হতে পারে। 

৩. শারীরিক পরিশ্রম: খেলাধুলা বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শিশুরা ঘামতে পারে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। 

৪. হাইপার থাইরয়েডিজম: থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকলে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। 

৫. হৃদরোগ: কিছু ক্ষেত্রে, হৃদরোগের কারণেও শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। 

৬. সংক্রমণ: জ্বর বা শরীরের কোনো সংক্রমণের কারণেও শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। 

৭. ওষুধের প্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও শিশুর শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। 

যদি শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সাথে অন্য কোনো সমস্যা যেমন, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা দেখা যায়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। 

শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হলে করণীয়

শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হলে করণীয় কিছু বিষয় নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. ঠান্ডা রাখুন: শিশুর ঘর বা পরিবেশ আরামদায়ক এবং ঠান্ডা রাখুন।অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্রতা ঘাম বাড়িয়ে দিতে পারে। 

২. পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করান: শিশুর শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা খুব জরুরি। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়, তাই তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল বা অন্যান্য তরল পান করিয়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে হবে। 

৩. ঢিলেঢালা পোশাক পরান: শিশুকে এমন পোশাক পরান যা হালকা, ঢিলেঢালা এবং বাতাস চলাচল করতে পারে। সুতির কাপড় ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে। 

৪. ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করুন: ঘুমানোর সময় ঘর যেন অতিরিক্ত গরম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। হালকা এবং আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমালে ঘাম কম হবে। 

৫. স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন: শিশুর ত্বক পরিষ্কার পরিছন্ন রাখুন এবং প্রতিদিন স্নান করান। ঘামাচি বা র‍্যাশ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

৬. খাবারের দিকে নজর রাখুন: শিশুর খাবারে মশলাদার বা অতিরিক্ত গরম খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত গরম খাবার ঘাম বাড়াতে পারে। 

৭. অতিরিক্ত ঘামের কারণ নির্ণয় করুন: যদি শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণ খুঁজে না পান, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কিছু ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত ঘাম রোগের লক্ষণ হতে পারে। 

উপসংহার

শিশুর অতিরিক্ত ঘাম সবসময় ভয় পাওয়ার কারণ নয়, তবে যদি তা নিয়মিত ও অস্বাভাবিকভাবে হয়, তাহলে তা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

Share this article
Shareable URL
Prev Post

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ: না জানলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে!

Next Post

রক্ত পরিশুদ্ধকারী ১০টি উপকারী খাবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next