স্ট্রোক মানেই সব শেষ নয় — সময়মতো বুঝলে জীবন ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তাই না? প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাদের এক বড় অংশ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।
আরও ভয়ানক তথ্য? WHO জানায়, প্রতি ৪ জনে ১ জন জীবনের কোনো এক সময় স্ট্রোকে ভুগবেন!
তাই এই লেখাটা পড়া জরুরি—তোমার, আমার, সবাইয়ের জন্য। কারণ স্ট্রোক কখন, কাকে আঘাত করবে, কেউ জানে না।
সঠিক সময়ে ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চিনতে পারলে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারলে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচা যায়। আজকের লেখায় আমরা ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয় নিয়ে সহজভাবে আলোচনা করব। তাহলে চলুন, শুরু করা যাক!
ব্রেইন স্ট্রোক কী?
অনেকে বলে, ব্রেইন স্ট্রোক মানেই প্যারালাইসিস। আসলে এটা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের বড় গোলমাল। আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে অথবা কোনো রক্তনালী ফেটে গেলে এই সমস্যা হয়। মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে ধীরে ধীরে মারা যেতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস দেখা দিতে পারে।
ব্রেইন স্ট্রোক যেকোনো বয়সেই হতে পারে, তবে সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। জীবনযাত্রা পরিবর্তন করে এবং কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ব্রেইন স্ট্রোক কেন হয়?
ব্রেইন স্ট্রোকের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। নিচে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হলো:
- উচ্চ রক্তচাপ: যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি। ৭০% স্ট্রোক রোগীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ছিল না
- ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস রোগীরাও ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন।
- উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালীতে ব্লক তৈরি হতে পারে, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
- ধূমপান: ধূমপান ব্রেইন স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। ডা. কাশেম চৌধুরী (নিউরোলজিস্ট, বিএসএমএমইউ) বলেন, “একটি সিগারেটই আপনার মস্তিষ্কের রক্তনালীতে বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
- অতিরিক্ত ওজন: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
- হার্টের সমস্যা: হৃদরোগ থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে সমস্যা হতে পারে, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী কী?
শরীর সিগন্যাল দেয়—শুধু বুঝে নিতে হয়। তাই মনে রাখো, FAST!
- F = Face: মুখ বাঁকা?
- A = Arm: হাত তুলতে পারছে?
- S = Speech: কথা জড়াচ্ছে?
- T = Time: সময় নষ্ট নয়, হাসপাতালে নাও!
ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দ্রুত চেনা খুবই জরুরি। কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। নিচে কিছু প্রধান লক্ষণ আলোচনা করা হলো:
মুখের অসাড়তা
হঠাৎ করে মুখের একপাশ অসাড় হয়ে যাওয়া ব্রেইন স্ট্রোকের একটি বড় লক্ষণ। হাসতে গেলে মুখ বেঁকে যেতে পারে অথবা কথা বলতে সমস্যা হতে পারে।
হাত বা পায়ের দুর্বলতা
হঠাৎ করে শরীরের একপাশের হাত বা পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা অথবা অবশ হয়ে যাওয়া ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। জিনিস ধরতে বা হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে।
কথা বলতে সমস্যা
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া ব্রেইন স্ট্রোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। আপনি হয়তো জানেন যে আপনি কী বলতে চান, কিন্তু মুখ দিয়ে কথা বের করতে পারছেন না।
দৃষ্টি সমস্যা
হঠাৎ করে চোখে ঝাপসা দেখা অথবা দৃষ্টি কমে যাওয়া ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে ডাবল ভিশন বা দুটি করে সবকিছু দেখার সমস্যাও হতে পারে।
তীব্র মাথাব্যথা
কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি এই মাথাব্যথার সাথে বমি বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্যহীনতা
হঠাৎ করে মাথা ঘোরা এবং শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারা ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। দাঁড়াতে বা হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ
উপরের লক্ষণগুলো ছাড়াও ব্রেইন স্ট্রোকের আরো কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:
- confusion বা বিভ্রান্তি
- স্মৃতি loss হওয়া
- খিঁচুনি হওয়া
- বেহুঁশ হয়ে যাওয়া
যদি আপনি অথবা আপনার পরিচিত কেউ এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। ঘরোয়া চিকিৎসা করতে গেলে রোগী মারাও যেতে পারে! সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
ব্রেইন স্ট্রোক হলে করণীয়
ব্রেইন স্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা। তাই দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নিচে ব্রেইন স্ট্রোক হলে কী কী করা উচিত, তা আলোচনা করা হলো:
- দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। প্রথম 3 ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাকে “গোল্ডেন আওয়ার” বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে রোগীর জীবন বাঁচানো এবং পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
- অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল করা
নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে না গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল করুন। অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গেলে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা রোগীকে স্থিতিশীল রাখতে এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে।
- রোগীকে শান্ত রাখা
ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে রোগী ভয় পেতে পারে বা উত্তেজিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে শান্ত রাখা খুবই জরুরি। রোগীকে আশ্বস্ত করুন এবং বলুন যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
- রোগীর তথ্য জানানো
হাসপাতালে যাওয়ার সময় রোগীর medical history, কী কী ওষুধ খাচ্ছেন এবং আগে কোনো রোগ ছিল কিনা, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ডাক্তারকে জানান। এই তথ্যগুলো ডাক্তারকে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে সাহায্য করবে।
- টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর (tPA)
যদি ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানো যায়, তাহলে ডাক্তার টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর (tPA) নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। এই ওষুধটি রক্ত জমাট বাঁধা দূর করে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তবে, tPA ব্যবহারের আগে রোগীর অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়।
- অন্যান্য চিকিৎসা
ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ এবং রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে ডাক্তার অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিও অবলম্বন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা
- শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা
- মস্তিষ্কের ফোলা কমানো
- শারীরিক থেরাপি এবং পুনর্বাসন
ব্রেইন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
ব্রেইন স্ট্রোক একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিচে কিছু উপায় আলোচনা করা হলো:
- স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ফল, সবজি, শস্য এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ত্যাগ করুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম, যেমন – হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা অথবা সাইকেল চালানো উচিত।
- ধূমপান পরিহার করা
ধূমপান ব্রেইন স্ট্রোকের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই ধূমপান পরিহার করা ব্রেইন স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য খুবই জরুরি।
- মদ্যপান পরিহার করা
অতিরিক্ত মদ্যপান ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মদ্যপান পরিহার করা অথবা পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মতো রোগগুলো আগে থেকেই শনাক্ত করা যায়। ফলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা
উচ্চ রক্তচাপ ব্রেইন স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানো এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা
ডায়াবেটিস রোগীরা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করানো এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
- কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালীতে ব্লক তৈরি হতে পারে, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। তাই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিত।
চিকিৎসকের টিপস:
- প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি
- সপ্তাহে ১ দিন রক্তচাপ, ১ মাসে ১ বার সুগার চেক
- লবণ দিনে ১ চা চামচের বেশি নয়
- মাংস নয়, মাছ খাও বেশি
ডা. আরিফুর রহমান (নিউরো সার্জন) বলেন, “স্ট্রোক ঠেকাতে হলে জীবনযাপন বদলাতে হবে—এটাই শেষ কথা।”
ব্রেইন স্ট্রোক: কখন ডাক্তার দেখাবেন?
ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই ডাক্তার দেখানো উচিত। সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। মনে রাখবেন, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব।
যদি আপনি অথবা আপনার পরিচিত কেউ নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন:
- মুখের অসাড়তা
- হাত বা পায়ের দুর্বলতা
- কথা বলতে সমস্যা
- দৃষ্টি সমস্যা
- তীব্র মাথাব্যথা
- মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্যহীনতা
- confusion বা বিভ্রান্তি
- স্মৃতি loss হওয়া
- খিঁচুনি হওয়া
- বেহুঁশ হয়ে যাওয়া
মুখ বাঁকা হয়ে গেল? হাত তুলতে পারছে না? ভয় পেয়েছেন? তাহলে সময় নষ্ট নয়, চলুন হাসপাতালে!
ব্রেইন স্ট্রোক নিয়ে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ব্রেইন স্ট্রোক নিয়ে আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। নিচে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:
প্রশ্ন ১: ব্রেইন স্ট্রোক কি বংশগত?
উত্তর: সরাসরি ব্রেইন স্ট্রোক বংশগত নয়। তবে, কিছু ঝুঁকি যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি বংশগত হতে পারে, যা ব্রেইন স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ায়।
প্রশ্ন ২: ব্রেইন স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য কী কী খাবার খাওয়া উচিত?
উত্তর: ব্রেইন স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। ফল, সবজি, শস্য এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ত্যাগ করুন।
প্রশ্ন ৩: ব্রেইন স্ট্রোকের পর কতদিন পর্যন্ত পুনর্বাসন প্রয়োজন হতে পারে?
উত্তর: পুনর্বাসনের সময়কাল রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। কারো কারো ক্ষেত্রে কয়েক মাস, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর্যন্ত পুনর্বাসন প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: ব্রেইন স্ট্রোকের পর কি স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, সঠিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে ব্রেইন স্ট্রোকের পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। তবে, এর জন্য রোগীর ধৈর্য এবং পরিবারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৫: স্ট্রোক কি আবার হতে পারে?
হ্যাঁ। ১ বার স্ট্রোক হলে ১ বছরের মধ্যে আবার হওয়ার সম্ভাবনা ২০%-৩০%।
শেষ কথা
ব্রেইন স্ট্রোক একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে লক্ষণগুলো চিনতে পারলে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারলে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচা যায়।
তুমি যদি একটু দেরি করো, তবে রোগী চিরতরে পঙ্গু হতে পারে। চিন্তা নয়, সচেতনতা হলেই বাঁচে জীবন।
এই লেখাটি যদি আপনাকে উপকার করে, দয়া করে শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার কাউকে জীবন দিতেও পারে। নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন।
আপনার মতো একজন সচেতন মানুষই সমাজের আলো।

BSES+Advance Nutritionist