ব্যাথা নিরাময়ে বিশস্ত সঙ্গি

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি? জাদুকরী ১৫টি স্বাস্থ্যগুণ জানুন

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি? অলিভ অয়েল মানে শুধু তেল না, এক প্রাকৃতিক গিফট, যা এক ফোঁটা খাওয়া বা লাগানোতেই শরীর বদলে দেয়। এতে আছে ওমেগা-৩, ভিটামিন E, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি ওজন কমায়, ত্বক উজ্জ্বল রাখে, চুল পড়া কমায় এবং লিভার পরিষ্কার রাখে। অনেক ডাক্তার অলিভ অয়েলকে ‘খাবারের ওষুধ’ বলে থাকেন। 

কেমন আছেন সবাই? আমি আজ আপনাদের সাথে অলিভ অয়েল (Olive Oil) নিয়ে কথা বলতে এসেছি। অলিভ অয়েল, মানে জলপাই তেল, শুধু রান্নার জন্য নয়, এটি আমাদের শরীরের জন্যেও ভীষণ উপকারী। রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য – সবেতেই এর গুণাগুণ ভরপুর। 

তাই, অলিভ অয়েল তেলের ১৫টি অসাধারণ উপকারিতা নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব, যা আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।

Table of Contents

অলিভ অয়েল কী এবং কেন এটি এত জনপ্রিয়?

অলিভ অয়েল জলপাই নামক ফল থেকে তৈরি তেল। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এটি বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েলের প্রকারভেদ

বাজারে বিভিন্ন ধরনের অলিভ অয়েল পাওয়া যায়, যেমন:

  • এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল: এটি সবচেয়ে ভালো মানের অলিভ অয়েল। সরাসরি জলপাই থেকে তৈরি হয় এবং এর মধ্যে অ্যাসিডের মাত্রা ১% এর কম থাকে।
  • ভার্জিন অলিভ অয়েল: এটিও ভালো, তবে এর অ্যাসিডের মাত্রা একটু বেশি থাকে (২% পর্যন্ত)।
  • রিফাইন্ড অলিভ অয়েল: এটি প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং এর গুণাগুণ কিছুটা কম থাকে।
  • লাইট অলিভ অয়েল: এটি রান্নার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি উপকারী নয়।

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি?

অলিভ অয়েল ১৫টি জাদুকরী উপকারিতা হলো:
১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

২. ওজন কমাতে সাহায্য করে

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

৫. হজমশক্তি বাড়ায়

৬. ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে

৭. চুলের যত্নে সাহায্য করে

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

৯. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

১০. ব্যথা কমায়

১১. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়

১২.  লিভার পরিষ্কার রাখা

১৩. কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

১৪. সোরিয়াসিস ও একজিমার উপশমে কাজ করে

১৫. দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে

প্রতি দিন মাত্র ২ চামচ Extra Virgin Olive Oil খেলেই শরীর থাকে ঝরঝরে ও রোগমুক্ত।

চলুন, এবার বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক অলিভ অয়েল আমাদের শরীরের জন্য কী কী উপকার করে:

১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

অলিভ অয়েলে আছে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা আমাদের হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এটি খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ায়, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

American Heart Association”-এর মতে, যারা রোজ ১-২ চামচ Extra Virgin Olive Oil খান, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২০%-৩০% কমে যায়।

২. ওজন কমাতে সাহায্য করে

ভাবছেন তেল আবার ওজন কমায় কিভাবে? অলিভ অয়েলে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আমাদের পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তাই, পরিমিত পরিমাণে অলিভ অয়েল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Harvard School of Public Health বলছে – “Healthy fats like olive oil reduce hunger and prevent overeating.”

সালাদে, ব্রেডে অলিভ অয়েল মিশিয়ে খেলেই হয়।

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

অলিভ অয়েল আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

অলিভ অয়েলে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এবং ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

Spanish EPIC Study অনুযায়ী, অলিভ অয়েল খাওয়ার ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ৬৮% কমে যায়।

সিজনিংয়ের সময় সরিষার তেল বা সয়াবিন বাদ দিয়ে অলিভ অয়েল দিন।

৫. হজমশক্তি বাড়ায়

অলিভ অয়েল আমাদের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এটি পেটের আলসার এবং গ্যাসট্রিকের সমস্যা কমাতে খুবই উপযোগী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ অলিভ অয়েল খেলে হজম ভালো হয়।

৬. ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে

অলিভ অয়েলে ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে, এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকে কালো দাগ ও বলিরেখা কমায়। রাতে ঘুমানোর আগে মুখে হালকা গরম অলিভ অয়েল লাগিয়ে ঘুমান।
এক সপ্তাহেই বুঝবেন পার্থক্য।

ডা. লুবনা ফারহানা (ত্বক বিশেষজ্ঞ, বিআরবি হাসপাতাল) –
“অলিভ অয়েল ন্যাচারাল এন্টি-এজিং ও ময়েশ্চারাইজার।”

অলিভ অয়েলে থাকে antibacterial এবং anti-inflammatory উপাদান ব্রণের জন্য জাদুকরী কাজ করে।

২ ফোঁটা অলিভ অয়েল + ১ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল, মুখে লাগান।

৭. চুলের যত্নে অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল চুলের জন্য একটা দারুণ জিনিস! এটা চুলকে নরম করে, মজবুত করে আর ঝলমলে করে তোলে।

ব্যবহার করার নিয়ম:

  • অলিভ অয়েল হালকা গরম করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন।
  • এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।

আয়ুর্বেদ অনুসারে, অলিভ অয়েল চুলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ প্রাকৃতিক তেল।

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি বিভিন্ন সংক্রমণ এবং রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে।

৯. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

অলিভ অয়েল হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে হাড় মজবুত থাকে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। 

বয়স্করা রোজ অল্প করে অলিভ অয়েল খেলে হাড় ভাঙার ভয় থাকে না।” — ডা. মোহিত রায়

১০. ব্যথা কমায়

অলিভ অয়েলে আছে ওলিওক্যান্থাল নামক একটি উপাদান, যা ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের প্রদাহ কমায় এবং বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

১১. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়

অলিভ অয়েল আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং অ্যালঝেইমার্সের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

Mediterranean diet অনুসারে, অলিভ অয়েল খেলে Alzheimer’s রোগের ঝুঁকি ৪০%-৫০% কমে।

১২. লিভার পরিষ্কার রাখে

অলিভ অয়েল লিভারে চর্বি জমা হতে দেয় না। দেহের টক্সিন দূর করে লিভারকে ক্লিন রাখে।

ব্যবহার: লেবুর রস + অলিভ অয়েল খালি পেটে খেলে ফল ভালো।

১৩. কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

অলিভ অয়েল অন্ত্রে প্রাকৃতিক লুব্রিকেশন তৈরি করে। স্টুল নরম হয়।

ভোরে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল পান করুন। 

১৪. সোরিয়াসিস ও একজিমার উপশমে কাজ করে

ব্যবহারবিধি: সরাসরি ক্ষত স্থানে অলিভ অয়েল লাগান। চুলকানি, র‍্যাশ কমে যাবে।

 “ওভার দ্য কাউন্টার স্টেরয়েড না দিয়ে অলিভ অয়েল ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ।” — ডা. শারমিন হক

১৫. দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে

Vitamin E ও Omega-3 এর জন্য macular degeneration ধীরে হয়।

রাতে ঘুমানোর আগে ১ চামচ খেলে চোখের ক্লান্তি কমে।

অলিভ অয়েল ব্যবহারের কিছু টিপস

  • রান্নায় ব্যবহার করার জন্য এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
  • স্যালাদের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • সকালে খালি পেটে এক চামচ অলিভ অয়েল খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • ত্বকের যত্নে সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন।
  • তুলার বল দিয়ে ১ ফোঁটা অলিভ অয়েল কানে দিলে ময়লা নরম হয় ও বের হয় সহজে।
  • ঠোঁট নরম রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলির বদলে অলিভ অয়েল লাগান।
  • অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করলে নখ শক্ত ও ঝকঝকে হয়। কিউটিকল নরম হয়।
  • বাচ্চার মালিশেও ব্যবহার করা যায়। অলিভ অয়েল দিয়ে শিশুর শরীর ম্যাসাজ করলে হাড় মজবুত হয়।
  • পা ফাটলে অলিভ অয়েল লাগান। গোসলের পর শুকনো পায়ে অলিভ অয়েল লাগালে ফাটা কমে।

অলিভ অয়েল ব্যবহারের কিছু সতর্কতা

  • অতিরিক্ত গরমে ভাজার জন্য নয়
  • দিনে ২-৩ চামচ যথেষ্ট
  • অতিরিক্ত খেলেই হতে পারে ডায়রিয়া বা গ্যাস্ট্রিক

সবচেয়ে ভালো হয় Extra Virgin Olive Oil খেলে। সস্তা বা কৃত্রিম ব্র্যান্ড এড়িয়ে চলুন।

বাজারে ভালো অলিভ অয়েল চেনার উপায়

  • বোতলে লেখা থাকবে “Cold-Pressed”
  • রঙ হবে হালকা সবুজ
  • গন্ধ হবে হালকা ঘাসের মতো

পৃথিবীর নামকরা ফোরাম Quora ও Reddit-এ অনেকেই বলছেন:

“আমি অলিভ অয়েল দিয়ে ওজন কমাতে পেরেছি।”
“ত্বক এতটা ভালো কখনো ছিল না!”
“গ্যাস্ট্রিক কমেছে অলিভ অয়েল খেয়ে।”

গর্ভাবস্থায় অলিভ অয়েল: মায়ের ও শিশুর জন্য কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় অলিভ অয়েল খাওয়া এবং ত্বকে লাগানো—দুটোই নিরাপদ ও উপকারী। এটি শিশুর মস্তিষ্কের গঠনে, মায়ের হজমে, ও ত্বকের টান কমাতে সাহায্য করে।

গর্ভাবস্থায় অলিভ অয়েল খেলে শুধু মায়ের শরীর ভালো থাকে না, গর্ভের শিশুও উপকার পায়। প্রথমত, এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর গঠন মজবুত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভকালীন নিউরোলজিকাল ডেভেলপমেন্টে অলিভ অয়েলের ভূমিকা অনন্য।

এই সময় অনেক নারী কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। অলিভ অয়েল প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে, পেটের গাঁট খোলে ও হজমে সাহায্য করে। ভোরে খালি পেটে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল ও হালকা গরম পানি খেলে বেশ উপকার মেলে।

“আমি প্রেগন্যান্সির সময় প্রতিদিন সালাদে অলিভ অয়েল দিতাম। আমার কোষ্ঠকাঠিন্য কমেছিল একদম।” – সায়মা, মা, বরিশাল। 

প্রেগন্যান্সিতে গ্যাস, বুকজ্বালা, পেটে অস্বস্তি খুব সাধারণ। অলিভ অয়েল সহজে ফ্যাট হজম করায় এবং পেটে হালকা ভাব আনে। 

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস অনেক মায়ের জন্য ভয়। অলিভ অয়েল রক্তে ইনসুলিনের কাজ সহজ করে, ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। “American Journal of Clinical Nutrition” বলছে, প্রেগন্যান্সিতে healthy fats খেলে গেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে ৩০%।

এই তেল রক্তচাপ কমায়। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হতে পারে, তাই হার্ট ও কিডনি সুরক্ষায় অলিভ অয়েল সহায়ক। 

এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। অনেক মা চর্বি খাওয়াকে ভয় পান, কিন্তু অলিভ অয়েল হলো ‘গুড ফ্যাট’। এটি খেলে অতিরিক্ত ওজন বাড়ে না, বরং শরীরের ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

গর্ভাবস্থায় অনেকের মুখে দাগ পড়ে, ত্বক খসখসে হয়ে যায়। অলিভ অয়েল ভিতর থেকে ত্বককে পুষ্টি দেয়, উজ্জ্বলতা ধরে রাখে এবং বলিরেখা বা কালচে ভাব কমায়।

আর সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো—স্ট্রেচ মার্ক কমানোর জন্য অলিভ অয়েল ম্যাজিকের মতো কাজ করে। প্রতিদিন গোসলের পরে পেট, কোমর ও বুকের চারপাশে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করলে চামড়ায় টান কম পড়ে এবং ফাটার সম্ভাবনাও কমে।

বেবি জন্মের পরে অলিভ অয়েল লাগালে সিজার কাটের দাগ ফ্যাকাশে হয়।

 এভাবে অলিভ অয়েল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে মা ও শিশুর জন্য তা আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।

“গর্ভাবস্থায় কিছু তেল খুবই উপকারী, বিশেষ করে অলিভ অয়েল। এটি মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ। তবে পরিমাণের দিক খেয়াল রাখতে হবে।”— ডা. ফারহানা কবির, গাইনী বিশেষজ্ঞ, পপুলার হাসপাতাল

 অলিভ অয়েল নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

অলিভ অয়েল নিয়ে আপনাদের মনে কিছু প্রশ্ন জাগতে পারে, তাই নিচে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

১. কোন অলিভ অয়েল সবচেয়ে ভালো?

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি সরাসরি জলপাই থেকে তৈরি হয় এবং এর মধ্যে অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকে।

২. অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে স্বাদে কোনো পরিবর্তন আসে কি?

হ্যাঁ, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের একটি প্রাকৃতিক মশলাদার বা ফলের স্বাদ থাকে, যা রান্নায় নরম অথচ সুস্বাদু প্রভাব ফেলে।

৩. অলিভ অয়েল কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকে?

সঠিক সংরক্ষণে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সাধারণত ১৮-২৪ মাস ভালো থাকে। তবে খোলার পর ৬ মাসের মধ্যে ব্যবহার করাই উত্তম।

৪. অলিভ অয়েল কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয়?

অলিভ অয়েল ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণ করতে হয়, যাতে এটি আলো এবং তাপ থেকে দূরে থাকে।

৫. অলিভ অয়েল কি ত্বকের সংবেদনশীলতা বা এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে?

যদিও খুব কম মানুষেই হয়, তবুও কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে সংবেদনশীলতা বা এলার্জি হতে পারে, প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

শেষ কথা – অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি

অলিভ অয়েল সত্যিই একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান। এর এত গুণাগুণ জানার পর আপনি নিশ্চয়ই এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী হবেন। 

সুস্থ থাকতে এবং সুন্দর ত্বক ও চুলের জন্য আজ থেকেই আপনার খাদ্য তালিকায় অলিভ অয়েল যোগ করুন।

আশা করি, আজকের আলোচনা আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন!

Share this article
Shareable URL
Prev Post

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা | কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

গ্যাসের সমস্যা দূর করার সেরা ১২ টি ঘরোয়া উপায়: ১ মিনিটেই ঘরোয়া সমাধান!

পেটে গ্যাস হলে অস্বস্তি, ঢেকুর, ব্যথা—এগুলো যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ঘরে থাকা কিছু উপাদানেই গ্যাস থেকে মুক্তি…
গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়