আমরা প্রতিদিন হাতের সাহায্যে লেখা, রান্না, বাচ্চাকে কোলে নেওয়া, কম্পিউটারে টাইপ করা কিংবা গাড়ি চালানো সহ নানা রকম কাজ করি। হঠাৎ হাতের জয়েন্টে ব্যথা — এই একটিমাত্র সমস্যাই অনেকের দৈনন্দিন জীবনে বিরাট ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আর হঠাৎ যদি বাম হাতের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয়, তখন সেই ব্যথা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপও তৈরি করে।
আপনি হয়তো এখন হাতের ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। আর আপনি হয়তো ভাবছেন, “কেন শুধু বাম হাতের জয়েন্টে ব্যথা করতেছে?” কীভাবে বুঝবেন গুরতর সমস্যা শুরু হয়েছে কিনা? আর কীভাবে চিকিৎসা বা প্রতিরোধ করবেন?
এই আর্টিকেলে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানব।বাম হাতের জয়েন্টের ব্যথার সমস্যা অনেক রোগীর দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তির কারণ। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, আঘাত বা আর্থ্রাইটিসের কারণে এই ব্যথা হতে পারে। সঠিক নির্ণয়ের জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, এক্স-রে এবং ব্লাড টেস্ট অপরিহার্য। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আদা, হলুদ ও তিলের তেল ও তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল প্রয়োগ সহ হালকা ব্যায়াম উপকারী। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাদ্য ও মানসিক শান্তি দীর্ঘমেয়াদী আরামের চাবিকাঠি। দ্রুত সুস্থতার লক্ষ্যে এই উপায়গুলো অবলম্বন করুন। উন্নত প্রযুক্তির ফলে সঠিক নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠিত হলে, ব্যথা দূর হয় ও জীবনমান বৃদ্ধি পায়।
হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা কারণ: কীভাবে শুরু হয় এই ব্যথা?
বাম হাতে ব্যথার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় হাতের অতিরিক্ত ব্যবহার, ভুল মুভমেন্ট অথবা ছোটখাটো আঘাতের কারণেও বাম হাতে ব্যথা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, এই ব্যথা একটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সময় মতো চিকিৎসা বাম হাতের ব্যথা উপশম করতে এবং জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
নিচে হাড়ের জয়েন্টের রোগের কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
১. অস্টিওআর্থারাইটিস (Osteoarthritis)
এটি হলো হাড়ের জয়েন্টে অবক্ষয়ের কারণে সৃষ্টি হওয়া ব্যথা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের জয়েন্টে থাকা কার্টিলেজ ক্ষয় হতে শুরু করে এবং হাড়ের সঙ্গে হাড় ঘষা লাগে, যা ব্যথার মূল কারণ।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে তরুণদেরও এই রোগ হতে পারে (হাড়ে চাপ পড়ার কারণে তরুণদের মধ্যেও দেখা যায়)।
২. রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস (Rheumatoid Arthritis)
এটি একটি অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই জয়েন্টের কোষ আক্রমণ করে। এতে হাড় ক্ষয়, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া ও ব্যথা হয়।
৩. হাড়ের ক্ষয় (Osteoporosis)
হাড়ের ক্ষয় একটি রোগ যা হাড়কে দুর্বল এবং ভঙ্গুর করে তোলে। এই অবস্থায় হাড় সহজে ভেঙে যেতে পারে এবং জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটি বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে বেশি ঘটে, তবে কোনো নির্দিষ্ট বয়সের বাইরে এটি তরুণদেরও হতে পারে।
৪. টেন্ডোনাইটিস (Tendinitis)
হাতের অতিরিক্ত ব্যবহারে টেন্ডনে প্রদাহ হয়। এটি সাধারণত কব্জি বা আঙুলের জয়েন্টে বেশি হয়।
৫. গাউট (Gout)
অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমে হাড়ের জয়েন্টে স্ফটিক তৈরি হলে তীব্র ব্যথা হয়। সাধারণত এটি পায়ে বেশি হলেও হাতে-ও হতে পারে।
৬. আঘাত বা চোট (Injury or Trauma)
বাম হাতের জয়েন্টে আঘাত বা চোটের কারণে ব্যথা হতে পারে। বিশেষত দুর্ঘটনা বা শারীরিক কার্যকলাপে অতিরিক্ত চাপ পড়লে, হাড় বা মাংসপেশী ছিঁড়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্ভব।
৭ . পুরনো ইনজুরি বা ফ্র্যাকচার
পূর্বে পাওয়া হালকা আঘাত, হাড়ের চিড় বা মচকানো এমনকি সঠিক চিকিৎসা না পেলে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার কারণ হতে পারে।
৮. ইনফেকশন (Infection)
হাড়ের জয়েন্টে সংক্রমণ হলে ব্যথা হতে পারে। যখন কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জয়েন্টের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন এটি প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ব্যথা এবং জয়েন্টের গতি কমে যায়।
৯. স্নায়ু চাপ (Nerve pressure)
কাঁধ বা ঘাড়ে কোনো স্নায়ু চাপ খেলে তা নিচের দিকে হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
১০. হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা (Chances of heart attack)
বাম হাতে ব্যথার একটি গুরুতর কারণ হলো হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। হার্ট অ্যাটাকের সময়, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে, যা বাম বাহু, কাঁধ এবং ঘাড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, এবং মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে।
Note: বুকে ব্যথার পাশাপাশি বাম হাতে বা বাহুতে ব্যথা হলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত, কারণ এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে। হার্ট অ্যাটাক একটি জরুরি অবস্থা, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
হাড়ের জয়েন্টের রোগের লক্ষণ
হাড়ের জয়েন্টের রোগ প্রথমদিকে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি দিয়ে শুরু হতে পারে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে পারলে চিকিৎসা সহজ ও দ্রুত হয়।
নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উল্লেখ করা হলো, যেগুলো দেখলেই আপনাকে সতর্ক হতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১. সকালের সময় জয়েন্টে শক্তভাব বা স্টিফনেস
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্ট যদি ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে শক্ত থাকে বা নাড়াতে অসুবিধা হয়, তবে এটি রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস বা অস্টিওআর্থারাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
২. জয়েন্টে ফোলা ও লালভাব
হঠাৎ করে কবজি, কনুই, আঙুল বা হাঁটুর মতো স্থানে ফোলাভাব দেখা দিলে এবং সেই স্থানে গরম ভাব ও লালচে রঙ লক্ষ্য করলে বুঝতে হবে জয়েন্টে প্রদাহ হয়েছে।
৩. ব্যথার স্থায়িত্ব ও ধরণ
যদি ব্যথা কয়েকদিন স্থায়ী থাকে, ঘন ঘন ফিরে আসে, বা কোনো নির্দিষ্ট নড়াচড়ার সময় তীব্র হয়, তবে এটি সাধারণ ইনজুরি নয় – বরং জয়েন্ট সংক্রান্ত রোগের লক্ষণ হতে পারে।
৪. চলাফেরার সময় শব্দ হওয়া (Clicking/Grinding)
হাঁটু বা কবজিতে যদি নড়াচড়ার সময় কড় কড় বা ঘর্ষণের শব্দ হয়, তবে বুঝতে হবে কার্টিলেজ ক্ষয় হতে শুরু করেছে।
৫. নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা
কোনো জয়েন্ট সঠিকভাবে বাঁকানো বা সোজা করা না গেলে, বা নড়াচড়া করতে গেলে ব্যথা হয় – সেটি মারাত্মক ইঙ্গিত হতে পারে যে জয়েন্টে স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে।
৬. চলাচলে দুর্বলতা বা ভারসাম্য হারানো
যদি হাড়ের জয়েন্টে সমস্যা থাকার কারণে চলাফেরায় সমস্যা হয়, হাত দিয়ে কিছু ধরতে কষ্ট হয় বা ভারসাম্য হারান – তবে অবহেলা না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে অবিলম্বে একজন অর্থোপেডিক বা রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- ব্যথা ও ফোলাভাব ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
- একাধিক জয়েন্টে একসাথে লক্ষণ দেখা দিলে
- জ্বর বা দুর্বলতা ব্যথার সঙ্গে যুক্ত হলে
- রাতে ব্যথা তীব্র হলে ঘুম ভেঙে যায়
- ওষুধে আরাম না পেলে বা বারবার সমস্যা ফিরে এলে
- বুকে ব্যথা ও বাম হাতে টান (হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত হতে পারে)
হাড়ের জয়েন্টের রোগ একটি নীরব ঘাতক হতে পারে যদি তা উপেক্ষা করা হয়। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। তাই উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন – কারণ স্বাস্থ্যই সম্পদ।
বিশেষজ্ঞ মতামত
অধ্যাপক ডাঃ গোলাম ফারুক, এমবিবিএস, এমএস (অর্থো), ফেলোশিপ ইন হ্যান্ড সার্জারি (ইউকে), পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সাভার:
“বাম হাতে স্থায়ী ব্যথা অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। অনেক সময় এটি জয়েন্ট ডিজেনারেশন বা হার্টের সমস্যার আগাম লক্ষণ হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা হলে জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের মতো বড় পদক্ষেপ এড়ানো সম্ভব।”
ডাঃ মোঃ তোফায়েল হোসাইন, ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ:
হাতের ব্যথা যদি বারবার ফিরে আসে বা কাজ করতে কষ্ট হয়, তাহলে শুধুমাত্র ওষুধে নির্ভর না করে ফিজিওথেরাপি শুরুর পরামর্শ দিই। এটা ব্যথা কমানোর পাশাপাশি হাতে শক্তি ও নমনীয়তা ফিরিয়ে আনে।
বাম হাতের জয়েন্টের রোগের চিকিৎসা: সমাধান কোন পথে?
বাম হাতের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে আমরা অনেকেই একে সাধারণ ক্লান্তি বা হালকা আঘাত বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু যখন এই ব্যথা ঘন ঘন ফিরে আসে, নড়াচড়ায় বাধা সৃষ্টি করে বা আঙ্গুল, কবজি ও কনুইতে অবসাদজনিত অনুভূতি তৈরি করে—তখন এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়।
এমন অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে—এর চিকিৎসা কী? এবং সত্যিকার সমাধান কোন পথে? ভালো খবর হলো—বাম হাতের জয়েন্টের চিকিৎসা এখন আগের তুলনায় অনেক আধুনিক ও ফলপ্রসূ।
রোগ নির্ণয়ই প্রথম ধাপ
সঠিক চিকিৎসা শুরু হয় একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে। চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা, এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে বুঝে নেন ব্যথার প্রকৃত উৎস—হাড়, টেন্ডন, না কি স্নায়ু।
ওষুধের সাহায্যে চিকিৎসা
- NSAIDs (ইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন): ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে কার্যকর।
- DMARDs: রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগে ব্যবহৃত হয়।
- কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন: তীব্র ও জটিল ব্যথার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক উপশম দেয়।
- নিউরোপ্যাথিক ওষুধ: যদি ব্যথার উৎস হয় স্নায়ু সংকোচন বা অবরুদ্ধ স্নায়ু।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো ওষুধ সেবন করা উচিৎ।
ফিজিওথেরাপি: কার্যকর ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিকল্প
হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং ও জয়েন্ট মবিলিটি এক্সারসাইজ ব্যথা হ্রাসে দারুণ কার্যকর। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যায়ামের পরিকল্পনা করে থাকেন, যা ব্যথা কমানোর পাশাপাশি জয়েন্ট সচল রাখতে সাহায্য করে।
ঘরোয়া সহায়ক ব্যবস্থা
- হাতের জন্য স্প্লিন্ট বা কবজি ব্রেস ব্যবহার করুন বিশ্রামের জন্য
- ঠান্ডা/গরম প্যাড ব্যবহার ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে
- কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি, ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা
বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি
আয়ুর্বেদ, আকুপাংচার, তেল মালিশ বা হালকা যোগব্যায়াম অনেকের জন্যই দারুণ কার্যকর হয়েছে। তবে যেকোনো বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।
তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েলের ম্যাসাজ
তাখফি স্ট্রেস রিলিফ অয়েল ব্যবহার করলে পেশী শিথিল হয় এবং বাম হাতের জয়েন্টে ব্যথা কমে। এটি প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যথা কমানোর জন্য কার্যকর। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই অয়েলের সাহায্যে দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী আরাম পাওয়া যায়।
সার্জারি: যখন অন্যসব পদ্ধতি ব্যর্থ হয়
যদি জয়েন্ট পুরোপুরি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় বা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তখন আর্থ্রোস্কোপি বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।
বাম হাতের জয়েন্টের রোগ প্রতিরোধ: প্রতিদিনের অভ্যাসেই সমাধান
হাড়ের অথবা বাম হাতের জয়েন্টের ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই যদি আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এ ধরনের রোগকে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিদিনকার জীবনযাত্রার ছোট ছোট পরিবর্তনই হতে পারে বড় সমাধানের চাবিকাঠি।
নিচে এমন কিছু কার্যকর অভ্যাস তুলে ধরা হলো:
পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D: দুধ, দই, ডিম, সামুদ্রিক মাছ—এই খাবারগুলো হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।
- অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবার: আদা, হলুদ, অলিভ অয়েল, বেরি জাতীয় ফল প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
নিয়মিত ব্যায়াম
- প্রতি দিন অন্তত ৩০ মিনিট হালকা এক্সারসাইজ করুন যেমন—হাঁটা, যোগব্যায়াম বা সুইমিং।
- আঙুল ও কবজির সহজ স্ট্রেচিং ব্যায়াম করে হাতের জয়েন্ট নমনীয় রাখুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ওজন হাড়ের জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে কাঁধ ও কবজির জয়েন্টে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
সঠিক অঙ্গবিন্যাস
- কম্পিউটারে কাজ করার সময় কবজি সোজা রাখুন।
- ভারী জিনিস তোলার সময় বাম হাতে অতিরিক্ত চাপ না দিন।
ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ
এগুলো হাড় দুর্বল করে এবং জয়েন্টে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায়। সুস্থ হাড় ও জয়েন্টের জন্য এগুলো ত্যাগ করা জরুরি।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি
ঘুম হাড়ের মেরামত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন অভ্যাস করুন।
মনে রাখবেন, “প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা”—এমন কিছু সহজ, দৈনন্দিন অভ্যাসই পারে আপনাকে বাম হাতের জয়েন্টের রোগ থেকে দূরে রাখতে। তাই নিজের যত্ন নিন, সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন!
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা কিছু কথা
রুবি আক্তার, একজন স্কুল শিক্ষক, বলেন,
“প্রথমে ভাবছিলাম কম্পিউটারে বেশি কাজের কারণে বাম হাতের ব্যথা। কিন্তু যখন এক কাপ চা তুলতে গিয়েও কষ্ট হচ্ছিল, তখন বুঝলাম ব্যাপারটা সিরিয়াস। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ও এক্সারসাইজে আমি এখন অনেক ভালো।”
উপসংহার
বাম হাতের জয়েন্টে ব্যথা কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। এটা হতে পারে হাড়ের গুরুতর কোনো অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ।
তাই অবহেলা না করে লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এনে আপনি নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।
স্মরণে রাখুন, একটি সচেতন সিদ্ধান্ত আপনার সুস্থ হাতের নিশ্চয়তা দিতে পারে। এখনই পদক্ষেপ নিন!
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বাম হাতে ব্যথা কি সবসময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ?
না, সব সময় নয়। বাম হাতে ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে—যেমন: আঘাত, আর্থারাইটিস, টেন্ডোনাইটিস, বা স্নায়ুর চাপে। তবে যদি ব্যথার সাথে বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরা থাকে, তাহলে তা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাতের জয়েন্ট ব্যথা কি পুরোপুরি সেরে যায়?
অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা, ব্যায়াম, ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে জয়েন্ট ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসে ব্যথা পুরোপুরি চলে না গেলেও নিয়মিত চিকিৎসা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
বয়সে জয়েন্ট ব্যথা কি স্বাভাবিক?
বয়স বাড়ার সাথে হাড়ের জয়েন্টের ক্ষয় হওয়া স্বাভাবিক, তবে তা নিয়মিত ব্যথা বা চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তা চিকিৎসার প্রয়োজন। বয়সজনিত হলেও অবহেলা করা ঠিক নয়।
আমি কোথা থেকে শুরু করব – ওষুধ, ব্যায়াম, না চিকিৎসক?
সর্বোত্তম সমাধান হচ্ছে: প্রথমে একজন অর্থোপেডিক বা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ ব্যথার কারণ বুঝে তবেই সঠিক চিকিৎসা বা এক্সারসাইজ পরিকল্পনা করা সম্ভব।

BSES+Advance Nutritionist